AB Bank
ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ


Ekushey Sangbad
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩:৫৪ পিএম, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এখন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান এই বিক্ষোভ সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কর্মকর্তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। খবর বিবিসির।

বিক্ষোভ থামাতে সোমবার (২২ এপ্রিল) ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকডজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে ইহুদি-বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যায় ক্যাম্পাসে সশরীরে ক্লাস নেওয়া আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিক্ষোভ বন্ধ করে ক্যাম্পাসকে শান্ত রাখার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের ওপর দিন দিন চাপ বাড়ছে বলে জানা গেছে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর থেকেই যুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভ এবং তর্ক-বিতর্কের চর্চা বাড়তে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষ এবং ইসলামভীতি দুই বেড়েছে।

বিক্ষোভ সামাল দিতে গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশকে ক্যাম্পাসে ঢোকার অনুমতি দেয় কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারী অনেক শিক্ষার্থীকে পুলিশ গ্রেফতার করে, যা সারা বিশ্বেই বেশ আলোচিত হয়।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতারের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী গত কয়েকদিন ধরেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করছেন।

কলম্বিয়ার প্রায় ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে বিক্ষোভকারীরা রীতিমত তাঁবু টানিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়েছে। অন্যান্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরাও ইসরায়েলি অস্ত্র সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অবশ্য এসব বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ইহুদি-বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও পোস্টে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে ইসরায়েলে হামাসের আক্রমণের প্রতি সমর্থন জানাতেও দেখা গেছে।

যদিও ইহুদি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা বলছেন, তাদের প্রতিবাদ ও সমালোচনা কেবল ইসরায়েল রাষ্ট্রের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে।

সোমবার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আপাতত তাদের সব ক্লাস অনলাইনে চলবে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মিনোচে শফিক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভীতিকর ও হয়রানিমূলক আচরণ’ এড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. শফিক বলেন, ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার জন্যই কলাম্বিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন একদল ব্যক্তি বিক্ষোভ ছড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন। এই সংকট সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ড. শফিক গত সপ্তাহে ক্যাপিটল হিলে গিয়েছিলেন। সেখানে মার্কিন সরকারের একটি কমিটির সামনে তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবিলার পাশাপাশি উদ্ভূত সমস্যার সমাধানের জন্য তাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্কের রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলিস স্টেফানিকের নেতৃত্বে ফেডারেল আইনপ্রণেতাদের একটি দল সোমবার একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে, যেখানে ড. শফিককে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওই চিঠিতে স্টেফানিক বলেন, ইহুদি-বিদ্বেষ ছড়ানোর বিক্ষোভ আন্দোলন থামাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জ্যারেড মস্কোভিটস, জোশ গোটেইমার, ড্যান গোল্ডম্যান এবং ক্যাথি ম্যানিং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা এক চিঠিতে উত্তর ক্যারোলিনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ভার্জিনিয়া ফক্স লিখেছেন, শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। ভার্জিনিয়া ফক্স বর্তমানে হাউস এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সোমবার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে। তিনি ‘ইহুদি-বিদ্বেষমূলক প্রতিবাদের’ নিন্দা জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভের পাশাপাশি গাজা যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক জায়গাতেই ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা সম্প্রতি শিকাগোতে বিক্ষোভ করেছেন। এছাড়া সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজ এবং নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজসহ আরও অনেক স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

একুশে সংবাদ/জা.নি/ এসএডি

Link copied!