ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. পডকাস্ট

অভিভাবকের অজান্তে সন্তানের হাতে অনলাইন ড্রাগস!


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬:১৪ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২২
অভিভাবকের অজান্তে সন্তানের হাতে অনলাইন ড্রাগস!

একটা সময় ছিলো গ্রামের মাঠেঘাটে শিশু-কিশোররা মেতে থাকত বিভিন্ন খেলাধুলায়। বিকাল বেলাটা কাটতো ফুটবল ও ক্রিকেটসহ ভিন্ন ভিন্ন খেলাধুলায়।

 

আজ দিন বদল হয়েছে প্রযুক্তির ছোঁয়ায়। তবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দিন বদল হলেও প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন আর বিকাল বেলা শিশু-কিশোরদের মাঠে খেলতে দেখা যায় না। তাদের দেখা মেলে বাড়ির কোনোয় বা রাস্তাঘাটের এক স্থানে বসে মগ্ন থাকে ভিডিও গেমস খেলায়।

 

খেলাধুলা বা গেমস শব্দটার সাথে জুড়ে আছে বিনোদন, উচ্ছ্বাস। আর এই বিনোদনের জন্য আমরা অনেক কিছু করে থাকি। যেমন নাটক বা মুভি দেখা, আড্ডা-গল্প, ফেসবুকিং আরোও অনেক কিছু। কিন্তু বর্তমান সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অনলাইন গেমস। বিশেষ করে এর হারটা বেড়ে গেছে গত দু’বছর যাবত।

 

বর্তমানে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে সমাজের প্রায় প্রতিটা মানুষের হাতেই স্মার্টফোন। হবেই না কেন ডিজিটাল বিশ্বে নিজেকে প্রযুক্তির সাথে টিকিয়ে রাখতে স্মার্টফোনই যথেষ্ট। আর এই প্রযুক্তির দৌড়ে কোন অভিভাবক চাইবে তার শিশুকে পিছিয়ে রাখতে। শিশুদের শিখতে ও শিখাতে অভিভাবকরা নিজ হাতেই তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন।

 

তবে এই স্মার্টফোন তাদের যতটা স্মার্ট করে তুলছে তার চেয়ে দ্বিগুণ করছে নেশাগ্রস্ত। অভিভাবকদের অজান্তেই শিশুরা পা রাখছে অনলাইন গেইমস নামের নেশার জগতে। বুঝে-নাবুঝে মগ্ন হচ্ছে অনলাইন গেইমসে। আর যখন তারা গেইমসের প্রতি পুরোপুরি মগ্ন হয়ে পড়ে তখন দেখা দেয় তাদের আচরণের পরিবর্তন। তখন তাদের হাতে মোবাইল না দিলে চিৎকার-চেঁচামেচি করা, উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা, রাগ দেখানো এবং অন্যান্য কাজে খুব বেশি মনোযোগ না দেওয়া। গেম খেলতে না দেওয়া কিংবা ইন্টারনেট কেনার টাকা না দেওয়ায় আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে আমাদের দেশে। ফলে বলাই যায় নিজ অজান্তেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন এসব অনলাইন ভিডিও গেইমস নামক নেশা।

 

শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে শরীরচর্চা ও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বর্তমানে শিশুরা খেলাধুলা থেকে সরে গিয়ে অনেকটাই মোবাইল ফোনে ভিডিও গেমসের দিকে বেশি ঝুঁকছে। এতে করে শারীরিক ও মানসিক উভয়ই দিকেই মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে যেভাবে শিশু-কিশোররা অতিরিক্ত ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

ইতিমধ্যেই এসব গেইমসের ভয়াবহতার কথা বিবেচনা করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, জাপান, ইরানসহ আরো অনেক দেশ এসব অনলাইন গেম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য বাংলাদেশে এ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও অদৃশ্য কারণে বন্ধ করা যায়নি। তরুণ প্রজন্মকে আসক্তি থেকে মুক্ত করতে না পারলে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের এখন ক্ষত ছোট, ওষুধ দিলে সেরে যাবে, কিন্তু ক্ষত বড় হলে তা সারানো কঠিন হয়ে পড়বে।

 

তাছাড়া অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়া দরকার। সন্তানদের অনলাইন দুনিয়ায় মানবিক ও সুস্থ বিনোদনের উপায়গুলোর সঙ্গে পরিচয় করে দেওয়া। তাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। ধর্মীয় বা নৈতিক শিক্ষার অগ্রহী করে তোলা। মাঠে গিয়ে খেলাধুলার ব্যবস্থা করা। তরুণ প্রজন্মকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে মাদকাসক্তিকে না বলার মতো অনলাইন গেমের প্রতি তরুণদের আসক্তিকেও না বলা, তবেই সোনার বাংলায় ফলবে সোনার ফসল।

 

লেখক: সামিল হোসেন, গণমাধ্যমকর্মী, সিলেট।
 

একুশে সংবাদ/পলাশ