ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank

হীরক জয়ন্তীতে মির্জা আজম


Ekushey Sangbad
ফিচার ডেস্ক
১২:৪০ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
হীরক জয়ন্তীতে মির্জা আজম

 

১৯৬২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার সুখনগরী গ্রামে মির্জা আজম জন্ম গ্রহণ করেন।

 

তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ৮ম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ এবং ৯ম জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ ছিলেন। পরে ২০১৪ সালে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

 

এছাড়াও তার রাজনৈতিক সুসমৃদ্ধ অতীত রয়েছে। তিনি ১৯৭৭ সালে হাইস্কুলের ছাত্র থাকাকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্যপদ লাভ করেন এবং ১৯৮১ সালে জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, ১৯৮৭ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক, ১৯৯১ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি এবং জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ সালে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ এর জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

 

মির্জা আজম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের টানা ৩ বারের সদস্য ও বর্তমান কমিটির দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

 

মির্জা আজম একদিনে তৈরি হয়নি। মির্জা আজমের আজকের ইস্পাত সুদৃঢ় অবস্থানের পিছনে আছে এক সুসমৃদ্ধ লড়াই সংগ্রামের অতীত। একবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার অন্যতম বিশ্বস্ত সিপাহসালার মির্জা আজম আজ এবং আগামীর আওয়ামী রাজনীতি তথা বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের প্রতিচ্ছবি।

 

পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ যখন রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রাণান্তকর লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, দেশীয় স্বৈরাচার ও আন্তর্জাতিক অপশক্তি যখন বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিঃশেষের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, যখন দেশের আপামর জনগণ মহান একাত্তরের বিজয়ের স্বাদ ভুলতে শুরু করেছিলো ঠিক তখনই মির্জা আজমের আবির্ভাব। যেকোনো রাজনৈতিক দলের সংকট কালে তৃণমূলের কর্মীদের উজ্জীবিত হওয়ার মাধ্যমেই কেবল দল তার জাতীয় ঐতিহ্যের হুঙ্কার ফিরে পায়। মির্জা আজম সেটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন গভীরভাবে। শুরু হয় তাঁর লড়াই সংগ্রাম। একসময়কার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পিছিয়ে পড়া জনপদ জামালপুরের প্রতিটি ঘরে আওয়ামী রাজনীতির সুবাতাস পৌঁছে দিতে ত্রিশ অনূর্ধ্ব যুবক মির্জা আজম নিরলস পরিশ্রম করেন সেই নব্বইয়ের দশকে। যারই ফলশ্রুতিতে মাত্র ২৮ বছর বয়সে, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জাতীয় সংসদের মুকুট স্পর্শ করেন বীরদর্পে।

 

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে ৮৮ টি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করেছিলো, মির্জা আজম তাদেরই একজন। এবার তিনি আর শুধুই জামালপুরের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রইলেন না। হয়ে উঠলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কণ্ঠস্বর। শুরু হলো নবদ্বার। ঢাকার রাজপথে লড়াই সংগ্রামের সুবিস্তীর্ণ মেঘখণ্ডে উঞ্চতা ছড়িয়ে গেলেন আপন মহিমায়। ফলাফল পঁচাত্তর পরবর্তী দীর্ঘ ২১ বছর ১৯৯৬ সালে একাত্তরের স্বপক্ষীয় শক্তির মসনদে আসীন।

 

এবার তিনি মনযোগী হলের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পরা জামালপুরবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য।

 

একসময়কার অবহেলিত জামালপুরে তিনি নতুন কর্মপরিবেশ তৈরি শুরু করলেন। শিক্ষা যে সকল প্রতিবন্ধকতা বিজয়ের দীর্ঘস্থায়ী হাতিয়ার সেটা তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বলেই, সারা জামালপুর ব্যাপী শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গঠনে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন। অঞ্চলগত উন্নতি সাধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তিনি গভীরভাবে অনুভব করতে পেরেছিলেন বলেই আজকের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বীজ তিনি আরও দু’দশক আগেই বুনেছিলেন।

 

আবার স্বাধীনতা বিরোধীদের আস্ফালন। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাত্র ৬২ টি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করে। জামালপুর বাসীর অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি তখন জাতীয় রাজনীতিরও অন্যতম মুখপাত্র হয়ে উঠেন। প্রতিটি জাতীয় রাজনৈতিক সংকটে তাঁর শীতল ছোঁয়ার অনুভূতি বাঙালি শত সহস্র বছর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। বিরোধী দলীয় জাতীয় সংসদের হুইপ কিংবা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন ঢাকার রাজপথে তাঁর কৌশলী বিচরণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে নতুন তিলক সংযুক্ত করেছে। ১/১১ তেও তাঁর ইস্পাত সুদৃঢ় অবস্থান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম সংকট উত্তরণ ও ক্ষমতার মসনদে পুনরায় আবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো।

 

৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়গাঁথায় তাঁর চাতুর্যময়তা মুগ্ধ হয়েছিলো সারাদেশ। নির্বাচনে বিজয়ের ঠিক ৫৫ দিনের মাথায় দেশ বিরোধী অপশক্তিদের ষড়যন্ত্রের অন্যতম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বিডিআর বিদ্রোহে মির্জা আজমের সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে শত সহস্র বছর। তারপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আজকের সুসমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অবস্থায় মির্জা আজম দেশরত্নের অন্যতম বিশ্বস্ত সিপাহসালার হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ২০১৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা আজম, রাজনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সাংগঠনিক কারিশমায় মির্জা আজম তৃণমূলের নজর কেড়েছেন আপন আলোয়। হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কণ্ঠস্বরের প্রতিচ্ছবি।

 

সফলদের সমালোচনা থাকেই। পৃথিবীর সকল সফলদেরকেই সমালোচনার মুখে ছাই ছিটিয়ে দিয়ে আপন দ্যুতি ছড়িয়ে যেতে হয়েছে দিগ্বিদিক। মির্জা আজমও তা-ই করবেন।

 

গভীর বাস্তব অভিজ্ঞতা, তীক্ষ্ণ মেধা, বিচক্ষণ বিশ্লেষণ ক্ষমতা, বিশেষ ঐশী শক্তি, অতুলনীয় মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন কল্যাণকামী এই মানুষটি তাঁর পরিচ্ছন্ন, উদার ধর্ম ও সমাজ চিন্তার মাধ্যমে ইতোমধ্যে সমগ্র বাংলাদেশের আশীর্বাদিক হয়ে উঠতে পেরেছন

 

লেখক

ইলিয়াস উদ্দিন

শিক্ষক ও সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ,

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর

 

একুশে সংবাদ.কম/জা.হা