ঢাকা রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. পডকাস্ট

পারিবারিক টানাপোড়নেই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা


Ekushey Sangbad
রেজোয়ানুল হক রিজু
১০:৫৮ এএম, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
পারিবারিক টানাপোড়নেই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ঘটনা ১: ২৮ আগস্ট,  ২০২২
রাজধানীর দক্ষিণখানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম সানজানা মোসাদ্দিক। তিনি ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। নিজ বাসার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে তিনি আত্নহত্যা করেন। দক্ষিণখান থানা পুলিশ জানিয়েছে, সানজানার বাসাথেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। যাতে তার মৃত্যুর জন্য বাবাকে দায়ী করেছেন সানজানা।

ঘটনা ২: ১৩ মার্চ, ২০২২
ময়মনসিংহ নগরীর বানিজ্যিক এলাকায় স্বদেশী বাজার মোড়ে রাইট পয়েন্ট নামক বহুতল ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে এক স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করে। আত্নহত্যার পূর্বে তার নিজের ফেসবুকে বাবা মায়ের সাথে অভিমানের কথা জানিয়ে আত্নহত্যার আভাস দিয়ে একটি স্টেটাস দেয়। নিহতের নাম অর্ক প্রিয়া ধর শ্রীজা। সে বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণী। সে গবেষক, ছড়াকার ও ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক স্বপন ধরের কন্যা।

উপরের দুটি ঘটনার পর্যালোচনা করলে দেখা যায় দুটি ঘটনার সাথে একটি মৌলিক বিষয় জড়িত তা হল পারিবারিক কলহ। বিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে পারিবারিক কলহ অতীতের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে এবং তা পরিবারের সন্তান ও শিক্ষাজীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে পারিবারিক কলহের জের ধরে আত্মহত্যার মত পথ বেছে নিচ্ছে পরিবারের সন্তানেরা। যার ফলে অঙ্কুরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে শিক্ষা জীবন।

আচল ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে,  এ বছরের প্রথম ৮ মাসে ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন; এদের মধ্যে স্কুলগামী ১৯৪ জন। কলেজ শিক্ষার্থী ৭৪ জন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৫০ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া ৪৪ জন।

বলছিলাম পারিবারিক টানাপোড়েন কথা:
করোনা পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশিরভাগ পরিবার। অনেক পরিবারের আয় রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিংবা সীমিত হয়ে আসায় নানা চাহিদার সৃষ্টি হচ্ছে। একসময় চাহিদা ঘাটতিতে রূপান্তরিত  হয়ে প্রতিনিয়ত কলহ বিবাদের সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই বিবাদ সন্তান যারা পড়াশোনা করছে তাদের উপরে গিয়ে পড়ছে এবং পরবর্তীতে সন্তানেরা বয়সের তুলনায় চাপ গ্রহণ করতে না পেরে এক সময় গিয়ে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিচ্ছে। এছাড়াও বাবা-মায়ের সম্পর্কের অবনতি, পরিবারের একজন অন্যজনকে না বোঝা এই দুটিও মোটা দাগে অন্যতম কারণ।

তবে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা কমানো সম্ভব। এজন্যে পরিবারে প্রত্যেকের সঙ্গে গুণগত সময় কাটাতে হবে। পরিবারে আর্থিক, সামাজিক যেকোনো সংকটে পরিবারের সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারো ওপরে এককভাবে দায় চাপানো যাবে না। পরিবারে যারা বয়োজ্যেষ্ঠ রয়েছে তাদের সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে, যাতে পরিবারে যে সকল শিক্ষার্থী বা সন্তান রয়েছে তাদের উপরে চাপের বোঝা না পড়ে কিংবা তারা যেন হতাশায় না ভোগে।

আত্মহত্যার সংবাদ পরিবেশনের সময় গণমাধ্যমগুলোকে সব সময় অনুমোদিত নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। প্রথাগত প্রচারমাধ্যমের পাশাপাশি বিকল্পধারার ইন্টারনেটভিত্তিক প্রচারমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর ব্যবহারকারীদেরও সতর্কতার সঙ্গে আত্মহত্যার বিষয় নিয়ে মন্তব্য ও ছবি পোস্ট করতে হবে। এখানেও কোনো আত্মহত্যার ঘটনাকে খুব মহৎ করে দেখানোর চেষ্টা করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর কর্তৃপক্ষেরও নিজস্ব নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। আত্মহত্যা প্রতিরোধে একটি সার্বক্ষণিক হটলাইন এখন সময়ের দাবি।

 

একুশে সংবাদ/এসএপি/