দেশে এক লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক এবং বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের উদ্যোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আপিল বিভাগ সরকারের আপিল গ্রহণ করেছে। ফলে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে এখন এসব পদে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এর পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরও প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে, যা শিক্ষা খাতের জন্য বড় একটি অগ্রগতি হবে।
পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও এবার কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভূত হয়নি। তার ভাষ্য, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করছেন।
শিক্ষামন্ত্রী উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। সাধারণ শিক্ষা ধারায় ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩৩ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঝরে পড়া দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক নয় এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নেওয়া ঋণ ও অনুদানের অর্থ সবসময় সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপচয় বরদাশত করা হবে না।
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা কার্যক্রমের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষা পরিচালনার মূল দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের, আর সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

