চলতি মার্চ মাসে দেশে মোট ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে এই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ১১টি চালানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে। এছাড়া দেশের তেল শোধনাগার ও পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্ট থেকে আরও প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাওয়া যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের জন্য নির্ধারিত একটি জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকে আছে। এমটি নর্ডিক পলাঙ নামের জাহাজটি ২ মার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনো বন্দরে অবস্থান করছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ইতোমধ্যে ৩২ হাজার টনের বেশি ডিজেলবাহী একটি জাহাজ পৌঁছে জ্বালানি খালাস সম্পন্ন করেছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘শিউ চি’ নামের একটি ট্যাংকার প্রায় ২৭ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করেছে।
শিপিং সূত্র জানিয়েছে, ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের আরেকটি জাহাজও প্রায় ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে শিগগিরই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি ‘এসপিটি থেমিস’, ‘র্যাফেলস সামুরাই’ ও ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও কয়েকটি ট্যাংকার মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বন্দরে ভিড়তে পারে, যেগুলোর প্রতিটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে।
এছাড়া ২৪, ২৫ ও ২৭ মার্চ আরও কয়েকটি জাহাজে করে অতিরিক্ত ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে বিপিসি জানিয়েছে।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে, যার বড় অংশই আমদানিনির্ভর।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে বন্দরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা অধিকাংশ জাহাজের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া হওয়ায় বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পড়ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

