চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় রহস্যজনকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চুরির একটি চক্র। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার পাশাপাশি চোরদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে রেহাই পাচ্ছে না গবাদিপশু কিংবা হাঁস-মুরগিও। চাঞ্চল্যকর এসব ঘটনার মধ্যে খোদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঢুকে জনপ্রতিনিধির পকেট থেকেও মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সুরাহা বা অপরাধীদের গ্রেফতারে সফল না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পৌর এলাকার কাছিয়াড়া গ্রামের নেছার পাটওয়ারীর ছেলে মো. সোহাগ পাটওয়ারীর বাড়ির সামনে থেকে তাঁর প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে যায়।
এর ঠিক আগের দিন বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে পশ্চিম রূপসা গ্রামের সৌরভ আলীর ছেলে মো. স্বপনের একমাত্র উপার্জনের সম্বল অটোরিকশাটি নিয়ে চম্পট দেয় চোরের দল।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে কালির বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী মো. ফরহাদ হোসেনের দোকানের টিনের চাল কেটে ভেতরে ঢুকে নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া সোমবার (২০ জুলাই) রাতে উপজেলার দক্ষিণ শাশিয়ালী গ্রামে বিদেশফেরত আব্দুল সাত্তারের বাড়িতে ঘটে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা।
ভুক্তভোগী আব্দুল সাত্তার জানান, চলতি সপ্তাহেই তিনি প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। মাত্র তিন দিন পর পরিবার নিয়ে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ নেয় চোরেরা। ঘরের টিনের চাল কেটে প্রবেশ করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে তারা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চোর চক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান পাটওয়ারী জানান, গত সপ্তাহে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকেই তাঁর ব্যবহৃত প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ‘আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স’ মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তা উদ্ধার হয়নি।
অন্যদিকে গুপ্টি পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ ও গোবিন্দপুর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান শাহআলম শেখ জানান, তাঁদের ইউনিয়নেও গত এক সপ্তাহে অন্তত ডজনখানেক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাসহ পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ শাশিয়ালী গ্রামের বাসিন্দা রিপন মজুমদার, নান্নু দেওয়ান ও মিলন জানান, গোটা এলাকায় এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বসতবাড়ির মালামালের পাশাপাশি গোয়ালের গরু-ছাগল ও খামারের হাঁস-মুরগিও চুরি হচ্ছে। জীবন রক্ষার্থে ও সম্পদ বাঁচাতে রাতের বেলায় পাহারা বসিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন বলেন, "বিভিন্ন চুরির ঘটনার বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ প্রতিটি ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। চোর চক্রটিকে শনাক্ত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

