নাটোরের লালপুরে রহস্যজনক ভাবে একই পরিবারের দুই ভাই তুহিন (৮) ও তুষার (৪) নামে দুই শিশুর মৃত্যুর পর পিতার গুরুত্বর অসুস্থ্য হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তুহিন ও তুষার উপজেলার মোহরকয়া গ্রামের মোরজেম আলীর ছেলে।
লালপুর থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের মৃত মসলেম উদ্দিনের ছেলে মোঃ মরজেম আলী সাথে স্ত্রী মোছাঃ তুলি বেগম এর সহিত পারিবারিক কোন্দলে গত ১৩ জুলাই তার স্ত্রী তুলি বেগম পিতার বাড়ী চলে যায়।
তাদের ঘরে দুটি ছেলে সন্তান নাম তুহিন (৮) এবং তুষার(৪) কে পিতা মরজেম আলী কাজে না গিয়ে চার দিন যাবত তার সন্তানদের নিয়ে নিজে রান্না করে খায় ও বাড়িতে থাকে। গত ১৬ জুলাই দিবাগত রাতে বড় ছেলে তুহিন কলা চিড়া খায় এবং তার পিতা মরজেম আলী ও ছোট ছেলে তুষার আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে রাতে তিনজনে একই কক্ষে গুমিয়ে পড়ে।
রাত অনুমান তিনটার দিকে তুহিন বমি করলে বিষয়টি পাশে থাকা তার বাবা জানতে পেরে প্রতিবেশী চাচা মোঃ মজনু এর সহায়তায় তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মোঃ ওয়ালিউজ্জামান তুহিনকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলে তার মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির লাশ তার পরিবারের নিকট দিয়ে দেন। মৃত তুহিনকে তার পরিবার ১৭ জুলাই সকাল দশটায় এলাকার চকশেরপাড়া নামক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করে।
মৃত তুহিনকে দাফনের পর তার ছোট ভাই তুষার গত ১৭ জুলাই দুপুরে বমি করতে করতে অচেতন হয়ে পড়লে তাকেও চিকিৎসার জন্য তার পিতা লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসে। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ সজিবুর রহমান অসুস্থ তুষারকে ভর্তি করে।
তুষার এর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৭ জুলাই রাত নয়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রেফার্ড করলে তুষারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৮ জুলাই সকালে তুষারের মৃত্যু হয়।
ছেলের লাশ নিয়ে বাড়িতে পৌঁছানোর পর পিতা মোঃ মরজেম আলী হঠাৎ অচেতন হলে তার আত্মীয় স্বজনরা দুপুরে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মরজেমকে পরীক্ষা করে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে নাটোর সরকারি হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেরণ করেন। বর্তমানে মোঃ মারজেম আলী সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একই পরিবারের দুই জন শিশুর মৃত্যুর পর পিতা অসুস্থ হওয়া এবং দুই শিশুর মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত আছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

