জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুরগ্রামে গভীর রাতে একটি ফলজ বাগানের ১৮ থেকে ২০টি ফলদ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাগান মালিক। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী মো. শাবলু সরকার কালাই থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পুরগ্রামে তাঁর বসতবাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার পূর্বে ১৪ শতাংশ জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা ফলজ বাগানে আম, কাঁঠাল, লিচু, ডালিম, পেয়ারা ও কমলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ ছিল। অধিকাংশ গাছেই ফল ধরেছিল এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হওয়ার কথা ছিল।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ জুলাই রাত ১০টা থেকে ১৩ জুলাই ভোর ৪টার মধ্যে কোনো এক সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা বাগানে প্রবেশ করে শত্রুতাবশত প্রায় ১৮ থেকে ২০টি ফলদ গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলে। এতে তাঁর প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পরদিন সকালে বাগানে গিয়ে গাছগুলো কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হতবাক হয়ে যান শাবলু সরকার। পরে স্থানীয়দের নিয়ে খোঁজাখুঁজি করেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি।
ভুক্তভোগী শাবলু সরকার বলেন, “বছরের পর বছর পরিশ্রম করে এই বাগান গড়ে তুলেছি। গাছগুলো শুধু সম্পদ নয়, আমার পরিবারের ভবিষ্যতেরও ভরসা ছিল। পরিকল্পিতভাবে আমাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন বলেন, “সকালে গিয়ে দেখি একের পর এক ফলদ গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। একজন মানুষের বহু বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।”
আরেক বাসিন্দা মো. রাসেল মিয়া বলেন, “যারা এ কাজ করেছে তারা শুধু গাছ কাটেনি, একজন কৃষকের স্বপ্নও কেটে ফেলেছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিতুল হোসেন বলেন, “এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আগে ঘটেনি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

