১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চৌগাছা উপজেলার ১৬ কিলোমিটার সড়কের মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যে কাজটি করা হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষনের আওতায়। এতে করে স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মাঝে।
সড়কগুলো দিয়ে এখন স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পেরে খুশি উপজেলাবাসীও। সামনের দিনে বরাদ্ধ পেলে বাকি কাজগুলো সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন,যশোরের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান।চৌগাছার উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডু বলেন,১১ ইউনিয়ন আর ১ টি পৌরসভা নিয়ে চৌগাছা উপজেলা।
এই উপজেলায় ২ লাখ ৩৫ হাজার মানুষের বসবাস। এ সব মানুষগুলোর জীবনযাত্রা অনেকটা শহর কেন্দ্রিক। আর তাদের যোগাযোগের মাধ্যম সড়ক ব্যবস্থা। যেটি কয়েক বছর যাবৎ ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। বর্তমান সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে
গ্রামীন সড়ক রক্ষণাবেক্ষনের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন।
যে টাকা ব্যয়ে যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও চৌগাছার দুই জন সংসদ সদস্যের নির্দেশনা মোতাবেক ১৬ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের কাজ আমরা শেষ করতে সক্ষম হয়েছি। এ সব সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে সৈয়দপুর পূর্বপাড়া থেকে সাত মাইল। যে সড়কটি ১২০০ মিটার।
এই সড়কটি ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার ৩শ ৪২ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয়েছে। ৩ কোটি ৪৭ লাখ,৭০ হাজার ২শ ২৭ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয়েছে চৌগাছা টেঙ্গরপুর থেকে যাদবপুর জিসি খড়িঞ্চা বাজার, পূড়াপাড়া জিসি রাজাপুর বাজার সড়কটি। যে সড়কটি চেইনজ ৩ হাজার ৯শ মিটার। ৮৫ লাখ ৫৮ হাজার ৪শ ৭৫ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয়েছে চৌগাছা- দামুড়হুদা বটতলা থেকে রুপদাহ ইউপি অফিস পর্যন্ত।
২৫শ ৫০ মিটার এই সড়কটি। মেরামত করা হয়েছে চৌগাছা থেকে কোটচাঁদপুর জিসি সড়কটি। এই সড়কের চেইনজ ৭০০০-১২৯৫৫ মিটার। যেটি মেরামতে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫শ ৭৮ টাকা। আর গয়রা থেকে মাশিলা সড়কটি ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৬শ ৯৫ টাকা ব্যয়ে মেরামত সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া চলমান রয়েছে ২৩৭০ মিটার কমলাপুর মোড় থেকে মাশিলা বাজার সড়কের মেরামতের কাজটি। যে সড়কটি মেরামতে ৭৯ লাখ ৯৮ হাজার ৮শ ২৭ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
এই সব সড়ক মেরামতের ফলে চৌগাছা উপজেলার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। সড়কগুলো দিয়ে এখন স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পেরে খুশি উপজেলার মানুষেরা।
তিনি আরো বলেন,২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বর্তমান সরকার যে উদ্দেশ্যে এই উপজেলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছিলেন,সেটি আমরা শতভাগ পূরন করতে সক্ষম হয়েছি।
এ ব্যাপারে খড়িঞ্চা গ্রামের পাখি ভ্যান চালক রফি উদ্দিন বলেন,পাখি চালিয়ে আয় রোজগার করে আমাদের সংসার চালাতে হয়। এই রাস্তাটিতে দীর্ঘদিন কাজ না হওয়ায়, খানা খন্দে ছিল সারা সড়কে। এ কারনে আমাদের যাত্রী ও মালামাল বহনে বেশ বেগ পেতে হত। এখন সড়কটি মেরামত হওয়ার ফলে আমাদের কস্ট দুর হয়েছে। বেড়েছে আয় রোজগার।
স্বরুপ গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন,চৌগাছা কোটচাঁদপুর সড়কে আমার একটা কাঁচা মালের পয়েন্ট রয়েছে। এছাড়া রয়েছে একটা ফল বাজার। যেখানে প্রতিনিয়ত শত শত গাড়ি চলাচল করে থাকে।কয়েকদিন আগেও এই সড়কটিতে চৌগাছা থেকে শিশুতলা বাজার পর্যন্ত আসতে অনেক বেগ পেতে হত ড্রাইভারদের। এখন সড়কটির কাজের পর থেকে স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মাঝে।
এ ছাড়া আমাদের পাশ্ববর্তী উপজেলা কোটচাঁদপুর। যেখানে একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে। এই কমপ্লেক্সের যত রোগী এ সড়ক দিয়ে যশোর যেতেন এ্যাম্বুলেন্সে করে। সড়কটি ভাঙ্গা থাকায় তাদেরকে আলামপুর দিয়ে ঘুরে যেত হত। এখন গাড়িগুলো সরাসরি যশোর যেতে পারছেন। এতে করে অনেক সময় কম লাগছে তাদের।
এ ব্যাপারে যশোরের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান বলেন,২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আমরা গ্রামীন সড়ক রক্ষণাবেক্ষনের আওতায় যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের কাজ শেষ করেছি। এ ছাড়া বরাদ্ধ পেলে উপজেলার বাকি সড়কগুলোর কাজ গুরুত্ব অনুযায়ী করা হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

