নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামের আশ্রয়ণ ও আদর্শ পল্লিতে টানা ভারী বর্ষণের পর সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি থাকা প্রায় ২০০ পরিবারের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক ঘরে এখনো পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও নিচু এলাকার অনেক ঘরে এখনো পানি আটকে রয়েছে। রান্নাবান্না, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ, টয়লেট ব্যবহার এবং শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। অনেক পরিবার এখনো শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণে সাপ ও জোঁকের উপদ্রবও অব্যাহত রয়েছে।
আশ্রয়ণ পল্লির বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন বলেন, “পানি কিছুটা কমেছে, কিন্তু ঘরের ভেতর এখনো ভেজা পরিবেশ। রান্না করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ছোট শিশুদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় আছি।”
অন্য বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, “প্রশাসনের দেওয়া শুকনো খাবার কিছুটা সহায়তা করেছে। তবে পানি পুরোপুরি না নামা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে থাকা সম্ভব নয়। আরও সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।”
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার, স্যালাইন ও মোমবাতি বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, আশ্রয়ণ পল্লির স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া না হলে সামান্য ভারী বর্ষণেই একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

