সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় ৭ হাজার ২৭১ জন কৃষকের মাঝে নগদ টাকা ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হাওরাঞ্চলে অতি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তা হিসেবে এ নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করা হয়।
তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা বিতরণকে কেন্দ্র করে উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মুখে মঙ্গলবার সকালে কিছু সময়ের জন্য বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে তা পুনরায় শুরু করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মধ্যনগর ও চামরদানী ইউনিয়নের তিনটি করে ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে সরকারি সহায়তা বিতরণ করা হয়। বিতরণ কার্যক্রম শুরুর পর তালিকায় নাম না থাকা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে চামরদানী ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগের পর সাময়িকভাবে বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলেও পরে তা আবার শুরু হয়।
এ সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা ‘অনিয়মের তালিকা মানি না, মানব না’ স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা বরাদ্দ এলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নিকটাত্মীয়দের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত নন—এমন ব্যক্তির নাম এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও তালিকায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্ষোভরত কৃষকেরা অনিয়মের অভিযোগে তালিকাভুক্ত কয়েকজনের নাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এর জন্য দায়ী থাকবেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, জিআর কর্মসূচির আওতায় আরও দুই হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে সহায়তা দেওয়া হবে। ওই তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যারা বাদ পড়েছেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

