সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালু, একাডেমিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করেছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। টানা দশম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে তারা ক্লাস বর্জন করে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করেন।
সকাল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা শিক্ষার্থীরা সড়কে বাঁশ ও চেয়ার ফেলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। তবে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে স্থানীয় অনেকেই সাময়িক এ ভোগান্তিকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতাল চালু হয়নি। ফলে তারা প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর আগে একাধিক কর্মসূচির পর হাসপাতাল দ্রুত চালুর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই দাবি আদায়ে আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
তাদের ভাষ্য, ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। হাসপাতাল চালু হলে শুধু শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা নিশ্চিত হবে না, সুনামগঞ্জের লাখো মানুষও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। তাই হাসপাতাল চালুর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানান তারা।
আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে পুরো সুনামগঞ্জবাসী একমত। হাসপাতাল চালুর দাবি শুধু তাদের নয়, এটি জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি।”
যানজটে আটকা পড়া রবিউল হাসান বলেন, “ভোগান্তি হলেও যদি হাসপাতালটি চালু হয়, তাহলে জেলার মানুষই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। তাই এ আন্দোলনের যৌক্তিকতা রয়েছে।”
অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফাত রেজা আকাশ, দ্বিতীয় ব্যাচের সাইদুল ইসলাম সাকিব, পিয়াস চন্দ্র দাস ও ফারহানা আহমেদ মিম, তৃতীয় ব্যাচের সানজিনা খানম ঐশি ও তামিমা হোসেন, চতুর্থ ব্যাচের ইনহা ইব্রাহিম এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সোমবার (২৯ জুন) শহরের আলফাত স্কয়ারে টানা নবম দিনের মতো মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুন এবং পরে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হাসপাতাল চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৬ সালেও একাধিক আশ্বাস মিললেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গত ২১ জুন থেকে হাসপাতাল চালু, একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করার দাবিতে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, হাসপাতাল চালুর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

