চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে চরম অস্থিরতা ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় দায়িত্ব পালন ও দায়সারাভাবে অভিযান পরিচালনার প্রতিবাদে ডিজিএম মো. সাইফুল আলমকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ বিদ্যুৎ কর্মীরা।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের উত্তর ধানুয়া গ্রামের গ্রাহকদের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন চলছিল। গত ২৩ জুন লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের স্থানীয় একদল ব্যক্তি বিদ্যুৎ বিভাগের দুই কর্মীকে তুলে নিয়ে যায়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার সকালে কোনো প্রকার পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই সংশ্লিষ্ট এলাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন ডিজিএম মো. সাইফুল আলম।
নির্দেশ অনুযায়ী, এজিএম নাজির উল্লাহর নেতৃত্বে ২৫ জনের একটি দল উত্তর ধানুয়া গ্রামে অভিযানে গেলে গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে এজিএম নাজির উল্লাহসহ অন্তত ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত ও লাঞ্ছিত হন।
আন্দোলনরত লাইন টেকনিশিয়ান ও লাইনম্যানদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এলাকাটি আগে থেকেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করা সত্ত্বেও কোনো প্রকার পুলিশি সহায়তা ছাড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। সহকর্মীদের জীবনের ঝুঁকির দায়ভার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা ডিজিএমের অপসারণ দাবি করেন। তারা স্লোগান দেন, “এক দফা, এক দাবি—ডিজিএমের অপসারণ চাই।”
অন্যদিকে, গ্রাহকদের অভিযোগের তীর বিদ্যুৎ বিভাগের অব্যবস্থাপনার দিকে। ভুক্তভোগী গ্রাহক জুয়েল গাজীসহ স্থানীয়রা জানান, গত দুই মাস বিদ্যুৎ বিলের কাগজ বাড়িতে পৌঁছানো হয়নি। এরপর হঠাৎ তিন মাসের বিল একসঙ্গে পাঠিয়ে আগের দুই মাসের ওপর বিলম্ব ফি আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসায় গ্রাহক পর্যায়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় বিদ্যুৎ কর্মীরা ফিরোজা বেগম নামে এক নারী গ্রাহককে মারধর করলে গ্রামবাসী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ বিষয়ে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, “আমি নিজেও এই চরম অব্যবস্থাপনার ভুক্তভোগী। সাধারণ মানুষকে অকারণে এভাবে হয়রানি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. এরশাদ উল্লাহ জানান, উপজেলার ধানুয়া গ্রামে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে হামলার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অবরুদ্ধ বিদ্যুৎ কর্মীদের উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিকেলে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী ফরিদগঞ্জ অফিসে পৌঁছান। তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকা ডিজিএম মো. সাইফুল আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

