AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে গোয়ালপুরী চরে গৃহহীন ৩০ পরিবার


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি,কুড়িগ্রাম
০৯:১৩ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৬

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে গোয়ালপুরী চরে গৃহহীন ৩০ পরিবার

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদে বিচ্ছিন্ন গোয়ালপুরীর চরে গত সাত দিনে নদীভাঙনে অন্তত ৩০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও প্রায় ১০০টি পরিবার হুমকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা।

ভারতের আসাম সীমান্তঘেঁষা গোয়ালপুরী চরে এক সময় প্রায় ৪০০ পরিবারের বসবাস ছিল। তবে দীর্ঘদিনের নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০টি পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, গত সাত দিনে নতুন করে ৩০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। যেভাবে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে, তাতে গোয়ালপুরী এলাকায় আরও প্রায় ১০০টি পরিবার যেকোনো সময় গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, “ভাঙনের কারণে এলাকার একটি মসজিদ ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রামের কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।”

বসতভিটা হারানো জসীম উদ্দীন বলেন, “জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ঘর নির্মাণ করেছিলাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে সব নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।” নূর হোসেন বলেন, “ঘরবাড়ি হারানোর পাশাপাশি আমরা খাদ্য সংকটেও পড়েছি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।” একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন পাষাণ মিয়া, মর্তুজ আলী, কালু মিয়া, খালেক মোল্লা, বাষিক মিয়া, রশিদ মিয়া ও লালচান মিয়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্য বাসিন্দারাও।

চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, কুড়িগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “ব্রহ্মপুত্র নদে চলমান ভাঙন অব্যাহত থাকলে গোয়ালপুরী চরটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ক্ষতিগ্রস্তরা অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত সহায়তা পায় না।” তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।


এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “জেলার ৩৬টি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০টি পয়েন্টে ভাঙনরোধে কাজ চলমান রয়েছে। বাকি এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, ভাঙনকবলিত গোয়ালপুরী চরের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষায় অনেকে আগেভাগেই ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!