AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে মিললো শিক্ষার্থীর মরদেহ



বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে মিললো শিক্ষার্থীর মরদেহ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি নামে একটি বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসান (১৫) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। 

এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত আটটার দিকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আতিকুর রহমান ও রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সঠিক বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে, এদিন বিকেলে মেহেদীর মরদেহ উদ্ধারের পর তাকে ‘পিটিয়ে হত্যা’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবারের সদস্যদের।

মেহেদী হাসান উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুত গ্রামের জিয়া উদ্দিন জিয়ার ছেলে ও ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। সে আবাসিক হলে থেকে পড়ালেখা করতো।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ মেহেদী হাসানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাত ৯টার পর ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে লোকজন জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গেট ও অভ্যর্থনা কক্ষ, অধ্যক্ষের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ বলছে, পরিবারের দাবি মেহেদীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ খবরে রাত ৮টার পর থেকে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে লোকজন জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গেট ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মেহেদী হাসানের বাবা জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে সুস্থ-স্বাভাবিক ছিল। তার আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণ ছিল না। আমরা ধারণা করছি, তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এসময় রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাইক হাতে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাইকে বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। তারা তদন্ত করে ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করবেন। সবাইকে শান্ত থাকার আহবান জানান তিনি।

এ ব্যপারে ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূইয়া জানান, শত কোটি টাকার বিনিময়েও আমি বাবা মা’কে তাদের সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারবো না। সে যেভাবেই মারা যাক না কেন এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। যদি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন গাফেলতি থাকে বা কোন শিক্ষার্থীর মানসিক টর্চারে ছেলেটি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। আমি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছি, সেখান থেকে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

কলেজ অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নান জানান, এ বিষয়ে আমরা জরুরি মিটিং ডেকেছি। আমাদের শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আমরা অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিবো। তিনি আরো জানান, আগামী ১০দিনের জন্য বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লক্ষ্মীপুর (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী সাংবাদিকদের বলেন, ওই ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে উত্তেজিত এলাকাবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে লক্ষ্মীপুর ১ রামগঞ্জ আসনের সাংসদ শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, হত্যা বা আত্মহত্যা কোনভাবে কাম্য নয়। আমরা মৃতের পরিবারের পাশে আছি থাকবো, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেন। এসময় তিনি স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙচুরের বিষয়টি সঠিক ছিলো না বলেও মন্তব্য করেন।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!