গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান (ভিপি আনিছ) (৬৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। রবিবার (৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর উত্তরার শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে তিনি মারা যান।
এদিকে, ভাই আনিছুর রহমানের মৃত্যুর খবর শুনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর বড় বোন রাশিদা বেগমও মারা গেছেন।
তিনি শ্রীপুর পৌরসভার মাধখলা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
২০০২ সালে শ্রীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি চারবার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শ্রীপুর সরকারি কলেজের ভিপি, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, গাজীপুর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি এবং শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ শ্রীপুরের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নিহতের ভাতিজা জাহিদুল আলম রবিন আনিছুর রহমান এবং তাঁর বড় বোন রাশিদা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রবিন বলেন, “আমার ফুফা সাবেক ছাত্রনেতা ও মেয়র ভিপি আনিছুর রহমান ডায়াবেটিস, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে ভুগছিলেন। কয়েকদিন আগে তাঁকে উত্তরার শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রবিবার দুপুরে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।”
তিনি আরও জানান, মেয়র আনিছুর রহমানের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাঁর বড় বোন রাশিদা বেগম জ্ঞান হারান। পরে তাঁকে মাওনা চৌরাস্তার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, সোমবার (৮ জুন) সকাল ১১টায় শ্রীপুর পৌরসভার মাধখলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।
আনিছুর রহমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে শ্রীপুর কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে শ্রীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সারাদেশের ৩২৩টি পৌরসভার মেয়র অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ওই সময় শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানকেও অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে তিনি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছিলেন।
পরিবার জানায়, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রবিবার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে জানায়।
একুশে সংবাদ/ এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

