তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপের সাভারের তিনটি কারখানা থেকে ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর মধ্যে উলাইল এলাকার একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড থেকে ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকার প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার থেকে ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস থেকে ৫৩ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
আল-মুসলিম গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইন-২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী এসব কারখানা থেকে ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের সব পাওনা ও বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে রেডিও কলোনি ও উলাইল এলাকার দুটি কারখানার সামনে ছাঁটাই হওয়া অনেক শ্রমিককে অবস্থান করতে দেখা যায়। অনেককে কারখানার ফটকের পাশের দেয়ালে টানানো তালিকায় নিজের নাম খুঁজতে দেখা যায়।
কারখানার সামনে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের দাবি, ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষের ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার দাবির বিষয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
উলাইল এলাকার কারখানার সুইং সেকশনের শ্রমিক সাব্বির হোসেন বলেন, “ঈদের ছুটির আগে আমাদের ২০ দিনের বেতন দেওয়া হয়। কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই আমাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। আজ (শনিবার) এসে শুনি আমার চাকরি নেই। নিয়মিত ওভারটাইম করানো হয়, আবার বলা হচ্ছে কাজ নেই।”
কারখানার শ্রমিক নাজমা আক্তার বলেন, “তিন বছর ধরে হেলপার হিসেবে কাজ করছি। ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলাম। ছুটি শেষে সকালে কারখানায় এসে দেখি কর্তৃপক্ষ আমার আইডি কার্ড নিয়ে নিয়েছে। পরে বলে মোবাইলে মেসেজ দেখতে। বাসায় গিয়ে দেখি কোনো মেসেজই আসেনি।”
একাধিক শ্রমিক ও শ্রমিকনেতা জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারে। তবে ২১ ধারা অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া দরকার ছিল। অন্যান্য খাতে কর্মীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে চাকরির নিরাপত্তাও বাড়ে। তবে গার্মেন্টস খাতে অনেক সময় এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। এছাড়া যেসব শ্রমিকের ইনক্রিমেন্ট ও গ্রেড বৃদ্ধির ফলে বেতন বেড়ে যায়, তাদেরও ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে পড়তে হয়।”
একুশে সংবাদ/ এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

