১৯৬৮ সালে দিঘীনালা থানা থেকে পৃথক হয়ে রাঙ্গামাটির অধীনে বাঘাইছড়ি থানা গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে ১ হাজার ৯৩১ দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা হিসেবে বাংলাদেশের মানচিত্রে স্থান পায়।
এই উপজেলায় রয়েছে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র, মাঝিপাড়া, উগলড়ি বিল এবং ছোট-বড় অনেক ঝরনা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য এলাকাটি বিশেষভাবে পরিচিত।
প্রায় দেড় লাখ জনসংখ্যার এ উপজেলা একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলা সদরে হাটবাজার, সরকারি বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া সাজেক পর্যটনকেন্দ্র, মারিশ্যা সদর, দূরছড়ি, করেঙ্গাতলী, বাঘাইহাট, মাচালং ও দোসর বাজারসহ শতাধিক সাপ্তাহিক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার রয়েছে। স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা-বিক্রেতারা এসব বাজারে প্রতিনিয়ত ভিড় জমান।
তবে এত গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তীর্ণ এই উপজেলায় এখনো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কোনো স্টেশন স্থাপন করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ড যেন বাঘাইছড়িবাসীর জন্য এক স্থায়ী আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। উপজেলা সদর, সাজেক পর্যটনকেন্দ্র, বাঘাইহাট বাজার, কাচালং বাজার, দূরছড়ি বাজার, বটতলী বাজার, পুরাতন মারিশ্যা বাজার, মুসলিম ব্লক বাজার ও লাল্যাঘোনা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সম্প্রতি সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট পুড়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের ২১ জুলাই উপজেলার অন্যতম ব্যবসাকেন্দ্র দূরছড়ি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এছাড়া মুসলিম ব্লক বাজারে আগুনে প্রায় ৪০টি দোকান ও ঘরবাড়ি পুড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, পার্শ্ববর্তী খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে দিঘীনালা উপজেলার দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার এবং পানছড়ি উপজেলার দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। তুলনামূলক কম আয়তন ও জনসংখ্যার এসব উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলেও বৃহৎ আয়তনের বাঘাইছড়িতে এখনো এমন কোনো সেবা চালু হয়নি।
অন্যদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা রাঙ্গামাটি জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার এবং খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় বাঘাইছড়িতে দ্রুত একটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, এমন একটি সেবা কেন্দ্র চালু হলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

