চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিখা খাতুন বুধবার রাত ১০টার দিকে অভিযুক্ত স্বামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি জীবননগর উপজেলার কয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় ঘটেছে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবননগর উপজেলার কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে বিপ্লবের (২৪) সঙ্গে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন দাবি করে আসছিল। এসব দাবি পূরণ না করায় শিখা খাতুনের ওপর তিনি প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিখা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “আমি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ অবস্থায় গত ২৬ মে রাতে স্বামী বিপ্লব যৌতুকের দাবিতে আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং পেটে লাথি মারে। পরে ৩১ মে রাত প্রায় ১০টার দিকে সে বাজার থেকে বাড়ি ফিরে আবারও আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। একপর্যায়ে এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করে। আমি জানাই, আমার বাবা একজন দরিদ্র মানুষ। এত টাকা বা মূল্যবান জিনিসপত্র দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লব আমাকে বেধড়ক মারধর করে এবং পেটে জোরে লাথি মারে। এতে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি।”
তিনি আরও বলেন, “পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে জীবননগরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। এরপর ১ জুন বিকেলে জীবননগর মনোয়ারা সোনো সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। চিকিৎসক জানান, গর্ভের সন্তানের কোনো হার্টবিট পাওয়া যাচ্ছে না। এক ঘণ্টা অক্সিজেন দেওয়ার পর পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলেও কোনো হার্টবিট পাওয়া যায়নি। পরে বুধবার সকাল ১১টার দিকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে আমি মৃত সন্তান প্রসব করি।”
শিখা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী আমার বাবার আর্থিক অবস্থা জেনেশুনেই আমাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই টাকা, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলের জন্য চাপ দিতে থাকে। দাবি পূরণ করতে না পারায় আমাকে প্রায়ই মারধর করা হতো। ঘটনার দিন পেটে লাথি মারার পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি, আমার সাত মাসের সন্তান আর বেঁচে নেই।”
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ বলেন, “এ ঘটনায় শিখা খাতুন বাদী হয়ে তাঁর স্বামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। যৌতুকের দাবিতে এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

