ঈদুল আজহার ছুটিতে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক বালিয়াটি জমিদারবাড়িতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনন্য এই স্থাপনা ঘুরে দেখছেন।
ঈদের পঞ্চম দিন সোমবার (১ জুন) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, জমিদারবাড়ি প্রাঙ্গণজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রবেশপথে টিকিট সংগ্রহে দর্শনার্থীদের ভিড়, বাইরে সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত যানবাহন। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বালিয়াটি জমিদারবাড়ির সহকারী কাস্টোডিয়ান মোহাম্মদ নিয়াজ মাখদুম জানান, ঈদের ছুটিতে কয়েক হাজার দর্শনার্থী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জমিদারবাড়ি পরিদর্শন করছেন। তিনি বলেন, পুরোনো স্থাপনাগুলোর সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে শুধু বালিয়াটি জমিদারবাড়ি নয়, উপজেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
প্রায় দুই শতাব্দীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক বালিয়াটি জমিদারবাড়ি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ জমিদারবাড়ি হিসেবে পরিচিত। আনুমানিক ১৭৯০ সালে এর ভিত্তি স্থাপিত হয়। জমিদার পরিবারের পূর্বপুরুষ গোবিন্দ রায় সাহা ছিলেন একজন খ্যাতনামা লবণ ব্যবসায়ী। তাঁর উত্তরসূরিরাই পরবর্তীতে বিশাল এই জমিদারবাড়ি নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন।
প্রায় ৫ দশমিক ৮৮ একর জমির ওপর নির্মিত এ স্থাপনায় রয়েছে সাতটি প্রাসাদসদৃশ ভবন ও প্রায় ২০০টি কক্ষ। পূর্ব বাড়ি, পশ্চিম বাড়ি, উত্তর বাড়ি, মধ্য বাড়ি এবং গোলাবাড়িসহ বিভিন্ন অংশে বিভক্ত এই জমিদারবাড়ির স্থাপত্যশৈলী দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। প্রবেশপথের সিংহমূর্তি, বিশাল স্তম্ভ, পাকা ঘাট এবং নান্দনিক কারুকাজ এখনো বহন করছে অতীতের গৌরবগাথা।
১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বালিয়াটি জমিদারবাড়িকে অধিগ্রহণ করে সংরক্ষণ ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। বাড়িটির একটি অংশে জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রত্ননিদর্শন প্রদর্শন করা হয়।
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি স্থানীয় পর্যটন খাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে। ইতিহাস, স্থাপত্য ও প্রকৃতির সমন্বয়ে বালিয়াটি জমিদারবাড়ি এখনও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে চলেছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

