প্রমত্তা পদ্মার বুক চিরে স্বপ্নের মতো জেগে উঠেছে এক বিশাল চর। আর সেই চরই এখন মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে প্রকৃতির কোলে নির্মল আনন্দ খোঁজার নতুন ঠিকানা।
পদ্মাসেতুর পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই নয়নাভিরাম বালুচর ঈদের ছুটিতে রূপ নেয় এক প্রাণচঞ্চল মিলনমেলায়। বিকেল গড়াতেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে শত শত মানুষ ছুটে আসেন এখানে।
নদীর বাতাস, বালুচর আর সেতুর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যেন এক অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয় আগতদের মনে। পদ্মার ঢেউ, কাশবনের দোলা আর মাথার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা পদ্মাসেতু সব মিলিয়ে এই চর যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ছবি, যা প্রতিদিন নতুন করে মুগ্ধ করছে মানুষকে।
দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পদ্মার বুকে ভেসে আছে এক টুকরো স্বর্গ। চারদিকে থইথই পানি, মাঝখানে বিস্তীর্ণ বালুর চর। কোথাও আবার নীলাভ পানির ছোট ছোট জলাধার, যা পুরো এলাকাকে দিয়েছে এক অপূর্ব নৈসর্গিক রূপ। চর পেরিয়ে কেউ নৌকায় চড়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াচ্ছেন, কেউবা নদীর শীতল জলে পা ডুবিয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির স্পর্শ। সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দ যেন এখানে পেয়েছে নতুন মাত্রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মাসেতুকে ঘিরে জেগে ওঠা নতুন নতুন চরগুলো ইতোমধ্যেই ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিস্তীর্ণ বালুচর, দৃষ্টিনন্দন সাদা কাশবন, নদীর ঢেউয়ের ছলাৎ-ছলাৎ শব্দ আর খোলা আকাশের নিচে বয়ে চলা বাতাস সবকিছু মিলিয়ে অনেকেই জায়গাটিকে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে ডাকতে শুরু করেছেন।
প্রতিদিনই হাজারো মানুষ এখানে ছুটে আসছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। যদিও বর্ষা এলেই হয়তো চরটি আবার পানির নিচে হারিয়ে যাবে, তবু এই সময়টুকুতে পদ্মার বুকে জেগে থাকা বালুচর মানুষের মনে রেখে যাচ্ছে অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি আর প্রকৃতির প্রতি নতুন করে ভালোবাসা।
স্থানীয় যুবক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিদিনই পর্যটক আসেন এখানে। তবে দুই ঈদের ছুটিতে মানুষের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শুক্রবার ও শনিবার দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এসে বনভোজন করেন, নৌভ্রমণ করেন এবং পরিবার নিয়ে সময় কাটান।
বন্ধুদের সঙ্গে নৌভ্রমণে আসা বাবুল মিয়া বলেন, পদ্মাসেতু আর এই নতুন চর আমাদের জন্য এক নতুন বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। নদীতে নেমে গোসল করলাম, নৌকায় ঘুরলাম সব মিলিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা। এমন সৌন্দর্য কাছ থেকে না দেখলে বোঝানো যাবে না।
ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা আলী হোসেনের চোখেও মুগ্ধতা। তিনি বলেন, শহরের ব্যস্ততা আর কোলাহল থেকে বের হয়ে এমন শান্ত পরিবেশে এসে সত্যিই ভালো লাগছে। নদীর পাড়, নির্মল বাতাস আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখে মনে হচ্ছে যেন কক্সবাজারের কোনো সমুদ্রসৈকতে চলে এসেছি।
স্থানীয়দের মতে, সরকারিভাবে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে পদ্মার বুকে জেগে ওঠা এই চরটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা, পর্যটকদের জন্য বিশ্রামাগার, নৌভ্রমণের আধুনিক সুবিধা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চলে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

