ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর তিতাস সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই কুমিল্লার তিতাস উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত পবিত্র কোরবানি ঈদের পর মাঠের রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের অবস্থান ও কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন স্থানীয়রা।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিং থাকলেও বর্তমানে তিতাসের রাজনৈতিক মাঠে অন্য দলগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা সেলিম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত হয়ে উঠছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজারে দলটির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা নিয়মিত উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে টানাপোড়েনও রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যদিও অন্য কোনো দলকে রাজনৈতিক সুবিধা না দেওয়ার প্রশ্নে তারা একাট্টা অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর তিতাস সফরের পর উপজেলা জুড়ে তরুণ ও ছাত্র রাজনীতিতে নতুন ধরনের নড়াচড়া শুরু হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সফরের পর থেকেই ছাত্র, যুব ও শ্রমিকভিত্তিক অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনের প্রস্তুতি চলছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বর্তমানে নতুন কর্মী সংগ্রহ ও সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে তৎপর রয়েছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখনো বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি। তবে দলটি নীরবে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঈদের পর তিতাসের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে সাবেক ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতাকর্মীদের আচরণ।
দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী এবার ঈদকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ঈদের শুভেচ্ছা, পুরোনো রাজনৈতিক ছবি এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তাদের পোস্ট স্থানীয়দের নজর কাড়ছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, শুধু অনলাইনে নয়, ঈদের সময় অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে নীরবে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগও বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, তিতাসের রাজনৈতিক মাঠ এখন আর একমুখী নেই। বিএনপির সক্রিয়তা, এনসিপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং আওয়ামী লীগের নীরব পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে আগামী দিনে তিতাসের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

