মাদারীপুরের কালকিনিতে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। শুক্রবার (২৯ মে) ভোররাতে কালকিনি পৌর এলাকার ভূরঘাটায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অসহায় মা ও নবজাতকের পিতৃপরিচয় না মিললেও তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই মানসিক ভারসাম্যহীন নারী দীর্ঘদিন ধরে কালকিনি পৌর এলাকার ভূরঘাটাসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাস্তায় ঘোরাফেরা করতেন। ফুটপাত কিংবা দোকানের বারান্দায় রাত কাটাতেন তিনি। শুক্রবার ভোররাতের দিকে ভূরঘাটা এলাকার একটি পরিত্যক্ত স্থানে তার প্রসববেদনা ওঠে। চিৎকার শুনে আশপাশের কয়েকজন স্থানীয় নারী এগিয়ে এসে মানবিক দিক বিবেচনায় প্রসবকার্যে সহযোগিতা করেন। পরে তিনি একটি সুস্থ ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।
সকালে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উৎসুক জনতা মা ও নবজাতককে দেখতে ভিড় জমায়। তবে উপস্থিত কেউই শিশুটির বাবার পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সমাজের কিছু লম্পট ও সুযোগসন্ধানী মানুষের লালসার শিকার হয়ে এই অসহায় নারী গর্ভধারণ করেছেন।
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফ উল আরেফীন বলেন, “ঘটনাটি জানার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত। এই অসহায় মা ও শিশুর চিকিৎসাসহ যাবতীয় খরচ এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। তাদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”
এদিকে নবজাতকের পিতৃপরিচয় না মেলায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, এ ঘটনা সামাজিক অবক্ষয়ের একটি নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা দাবি জানিয়েছেন, শুধু চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেই হবে না; বরং এই মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে যারা এমন পরিস্থিতিতে ফেলেছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো অসহায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

