পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র তিনদিন বাকি। তবে ঈদ ঘনিয়ে এলেও এখনো জমে ওঠেনি প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের কোরবানির পশুর হাট। নগরীর একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট কাজিরবাজারসহ সিটি করপোরেশন অনুমোদিত পাঁচটি অস্থায়ী হাটে পশুর সমাগম বাড়লেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ফলে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা বাড়ার আশায় দিন গুনছেন পাইকার ও ব্যবসায়ীরা।
রবিবার নগরীর প্রধান পশুর হাট কাজিরবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছোট-বড় ও বাহারি রঙের গরু নিয়ে বসেছেন পাইকাররা। পাশাপাশি রয়েছে ছাগল ও ভেড়াও। তবে হাটে মানুষের আনাগোনা থাকলেও বেশিরভাগই পশু দেখে দরদাম করে চলে যাচ্ছেন। বিক্রি খুবই সীমিত বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে নগরীতে পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন মাঠ, নতুন টুকেরবাজার তেমুখী এলাকা, মিরাপাড়ার আব্দুল লতিফ প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠ, শাহপরান বাজার এলাকা এবং তেতলীর এসফল্ট মাঠ। গত ২০ মে থেকে এসব হাটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পশু আসাও শুরু হয়েছে, তবে বেচাকেনা এখনো জমে ওঠেনি।
এ ছাড়া সদর উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত পীরেরবাজার ও ইসলামগঞ্জ বাজারেও অস্থায়ী পশুর হাট প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কাজিরবাজার হাটে দেখা যায়, একেকজন পাইকার ১০ থেকে ৩০টি গরু নিয়ে এসেছেন। কিন্তু অধিকাংশেরই বিক্রি খুব কম। কেউ কেউ এখনো একটি পশুও বিক্রি করতে পারেননি।
গোয়ালাবাজার থেকে ১৫টি গরু নিয়ে আসা বিক্রেতা কামরুল হোসেন বলেন, “এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি গরু বিক্রি করেছি। অনেকে এসে দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন। নগরে পশু রাখার ঝামেলা থাকায় বেশিরভাগ মানুষ শেষ সময়েই গরু কেনেন।”
কাজিরবাজার পশুর হাটের ইজারাদার কমিটির সদস্য সৈয়দ সাফেক মাহবুব বলেন, “প্রতিদিনই নতুন পশু আসছে। এবার প্রথমবারের মতো সিটি করপোরেশন থেকে হাটটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ও রাস্তাঘাট আগের চেয়ে ভালো। নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।”
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, “সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ১৫টি হাটের তালিকা পেয়েছি। প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরাও কাজ করছেন।” তিনি জানান, ইজারার বাইরে কোনো অবৈধ পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এ জন্য বৈধ হাট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও চালু করা হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব বলেন, “সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত পাঁচটি হাটের বাইরে কোনো অবৈধ হাট বসতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, জেলায় এবার মোট ৬০টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। অবৈধ হাট ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

