মাদারীপুর শহরের পানিছত্র এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ আদালতের বিশেষ অভিযানে ৮টি ইটভাটা ও ২টি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ আদালতের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এলিয়াম হোসেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ দূষণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা এবং বিদ্যমান আইন অমান্যের অভিযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে একটি ইটভাটাকে নগদ অর্থদণ্ড করা হয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের আওতায় থাকা ইটভাটাগুলোর মধ্যে রয়েছে সুপার ব্রিকস, মেসার্স শেফা সাজ্জাদ ব্রিকস, মেসার্স জেএম ব্রিকস, এমএমবি ব্রিকস, অগ্রণী ব্রিকস, এমআরবি ব্রিকস, কেএমএইচ ব্রিকস ও মেসার্স নিশান ব্রিকসসহ আরও একটি ইটভাটা। পরিবেশগত নিয়মনীতি অমান্য করে কালো ধোঁয়া নির্গমন ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে শহরের পানিছত্র এলাকার ‘স্পেশালাইজড মেডিকেল কেয়ার হাসপাতাল লিমিটেড’-এ অভিযান চালিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা এড়াতে পরিবেশ আদালতকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এলিয়াম হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
একই এলাকায় অবস্থিত ‘কে আই হাসপাতাল’-এও অভিযান চালানো হয়। সেখানে পরিবেশগত শর্তাবলির কিছু সীমিত লঙ্ঘনের বিষয় শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে স্পেশালাইজড মেডিকেল কেয়ার হাসপাতালে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ইটিপি না থাকাসহ সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এলিয়াম হোসেন বলেন, “পরিবেশ আইন অমান্যকারী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অনৈতিক সুবিধা দিতে চাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

