AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ভোলার চরাঞ্চলে এক সপ্তাহে ৫০টি গবাদিপশু চুরি



ভোলার চরাঞ্চলে এক সপ্তাহে ৫০টি গবাদিপশু চুরি

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভোলার চরাঞ্চলের গবাদিপশু চুরি ও ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের বাথান থেকে প্রায় ৫০টি গবাদিপশু চুরি ও অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামারিরা। ফলে আতঙ্কে আছেন চরাঞ্চলের শত শত বাথানমালিক।

খামারিদের অভিযোগ, কোরবানির আগে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মহিষের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলে নিয়মিত টহল না থাকা এবং নদী ও চর এলাকার আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্রধারীরা গভীর রাতে বাথানে হামলা চালাচ্ছে।

ভোলার ইলিশা এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসান বলেন, তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় যাওয়ার পর খবর পান, তাঁদের বাথান থেকে কয়েকটি মহিষ চুরি হয়েছে। এর মধ্যে তাঁর নিজেরও একটি মহিষ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, রাতের আঁধারে দ্রুতগামী ট্রলার নিয়ে একদল অস্ত্রধারী চোর-ডাকাত চরাঞ্চলে প্রবেশ করে। পরে বাথান থেকে মহিষ ও গরু ট্রলারে তুলে নিয়ে যায়। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

খামারিদের ভাষ্য, দিনের বেলা ও রাতভর চরাঞ্চলে মুক্তভাবে ঘাস খেয়ে বেড়ায় মহিষগুলো। বিস্তীর্ণ চরে শত শত মহিষ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পশু নিখোঁজ হয়েছে কি না, তা বোঝা যায় না। আর সংঘবদ্ধ চক্রটি অস্ত্র নিয়ে আসায় রাখাল ও স্থানীয় লোকজন ভয়ে বাধা দিতে পারেন না।

দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের বৈরাগীর চর এলাকার খামারি আবদুল মান্নান হাওলাদার বলেন, শুক্রবার রাতে রাখালেরা মহিষ ছেড়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে উঠে দেখেন তাঁদের দুটি গাভিন মহিষ নেই। ইকবাল হাওলাদারের একটি মহিষের বাচ্চা ফেলে রেখে মা মহিষটি নিয়ে গেছে চক্রটি। সব মিলিয়ে ওই বাথান থেকে আটটি মহিষ খোয়া গেছে। তিনি আরও জানান, একই চরের আবুল কাশেম মাস্টারের একটি মহিষ, আবদুর রাজ্জাকের দুটি, মো. হোসেনের তিনটি বড় মহিষ ও দুটি গরু এবং মো. ফারুক ব্যাপারীর দুটি মহিষ নিয়ে গেছে চক্রটি।

মেদুয়া ইউনিয়নের চর নেয়ামতপুর এলাকার আজাদ মাঝি বলেন, ইউসুফ জিলাদারের ১০টি মহিষ ও ৭টি গরু, তাঁর জামাইয়ের ৪টি মহিষ, আজাদ মাঝির ৪টি মহিষ, নিজাম হাওলাদারের ২টি ও আকবরের ৪টি ভেড়া সন্ধ্যার পর চুরি হয়েছে। তখন চরে লোকজন থাকলেও অস্ত্রের ভয়ে কেউ বাধা দিতে পারেননি।

এদিকে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের চর কালুপুর এলাকার খামারি মো. আবুল কাশেম ১২টি মহিষ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি সূত্রে জানা যায়, তাঁর বাথানে প্রায় ৩০০টি মহিষ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চর কালুপুর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডে রাখালের মাধ্যমে মহিষ লালন-পালন করে আসছেন। ৬ মে দিবাগত রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় ১২টি মহিষ নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে ১১টির ডান কানের নিচে ‘কুরানিয়া কাটা’ চিহ্ন ছিল।

নিখোঁজ মহিষগুলোর সন্ধান না পেয়ে ৯ মে ভোলা সদর থানায় জিডি করেন তিনি। থানার কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দাস জিডিটি গ্রহণ করেন।

ভেদুরিয়া এলাকার খামারি ইউসুফ শনি জানান, চর চটকীমারা এলাকা থেকে তাঁর দুটি মহিষের বাছুর নিখোঁজ হয়েছে। দুই দিন ধরে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাছুর দুটির মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।

মহিষ মালিকদের দাবি, ভোলার চরাঞ্চলে বাথানভিত্তিক মহিষ পালন শুধু জীবিকা নয়, এটি শত বছরের ঐতিহ্য ও হাজার কোটি টাকার অর্থনীতির অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক চুরি-ডাকাতির ঘটনায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহান সরকার বলেন, নদী এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব মূলত নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের। যেহেতু এ ঘটনায় জিডি হয়েছে, তাই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলার ইলিশা নৌ থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, “আমাদের দায়িত্ব মূলত নদীকেন্দ্রিক। আমরা নদীতে টহল দিচ্ছি। তবে চরের নিরাপত্তার দায়িত্ব মূলত পুলিশের।”

 

একুশে সংবাদ/যাবিদ

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!