গরমে ঠান্ডা তরমুজের স্বাদ যেন আলাদা এক স্বস্তি। বাসায় হোক বা রাস্তার পাশের দোকান থেকে কেনা—গ্রীষ্মে জনপ্রিয় ফলের তালিকায় তরমুজ থাকে সবার ওপরে।
তবে সম্প্রতি তরমুজ খাওয়াকে ঘিরে কয়েকটি ঘটনার পর এর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে গরমের সময়ে ফলটি কীভাবে কাটা, সংরক্ষণ ও পরিবেশন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
কাটা তরমুজ কি খাওয়া নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরমুজ খাওয়া নিরাপদ, কিন্তু একবার কেটে ফেললে এটি দূষিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে পানি ও চিনির পরিমাণ বেশি হওয়ায় ফলটি খোলা অবস্থায় রাখলে বা ভুলভাবে সংরক্ষণ করলে এতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।
খাদ্য নিরাপত্তা মূলত সঠিক সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যবিধির ওপর নির্ভর করে। তার মতে, গ্রীষ্মকালে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায় এবং যে খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয় না তা স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
তরমুজ কাটার আগে ধুয়ে নেওয়া উচিত এবং কাটার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের তাপমাত্রায় রাখলে দূষণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, সেইসঙ্গে শিশুরা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অস্বস্তি বা বমির মতো হালকা লক্ষণ দেখা দিলেও সেটিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত এবং কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
কীভাবে নিরাপদে তরমুজ খাবেন
প্রথম ধাপ হলো সঠিক ফলটি বেছে নেওয়া। একটি তাজা, শক্ত তরমুজে যাতে কোনো দৃশ্যমান ক্ষতি বা ফাটল নেই, তাতে দূষণের সম্ভাবনা কম থাকে। কাটার আগে বাইরের পৃষ্ঠটি ভালোভাবে পরিষ্কার করাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খোসা থেকে ব্যাকটেরিয়া শাঁসে স্থানান্তরিত হতে পারে। একবার কেটে ফেলার পর, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। আপনাকে যা করতে হবে-
* কাটার আগে হাত ধোয়া এবং একটি পরিষ্কার ছুরি ব্যবহার করা।
* দীর্ঘ সময় ধরে খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা আগে থেকে কাটা তরমুজ এড়িয়ে চলা।
* কাটা টুকরাগুলো ফ্রিজে একটি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা।
* বাইরে ফেলে না রেখে অল্প সময়ের মধ্যে খেয়ে ফেলা।
সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং খাওয়া হলে তরমুজ একটি স্বাস্থ্যকর এবং শরীরকে সতেজ রাখা গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবেই থাকে। ফল বাছাই করা থেকে শুরু করে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা পর্যন্ত সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলে ঝুঁকি কমানো যায়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

