মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মেয়ে তাসনিম সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে ২০২৫ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তালিকায় তার নামও ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়।
১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার বাবা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন দেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা ও একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।
শৈশবের একটি সময় তিনি কলকাতায় কাটান। পরে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে যোগ দেন। এরপর ১৯৭৫ সালে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান একমি গ্রুপে যুক্ত হন এবং ১৯৮৩ সাল থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেন।
বিএনপির মনোনয়নে মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নূরুল ইসলাম খান বাদল এবং অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে পরাজিত করেছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকার জন্য এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সহকর্মী ও স্থানীয় বিশিষ্টজনরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

