নাটোরের বড়াইগ্রামের ইসলামপুর গুনাইহাটি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওসমান গনিকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মব সৃষ্টি করে পদত্যাগে বাধ্য করার প্রতিবাদে এবং চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে অধ্যক্ষ ওসমান গনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ ওসমান গনি বলেন, তিনি ১৯৮৮ সালে সহকারী মৌলভি হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ২০১৫ সালে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়েছে এবং সে সময় প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টানানো ছিল বাধ্যতামূলক।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে আওয়ামী লীগের সমর্থক আখ্যা দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং পরে সেটিকে পদত্যাগপত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও তিনি জানান।
ওসমান গনি বলেন, “আমি বর্তমানে নিজ বাড়িতে নিভৃতে জীবনযাপন করছি। বিশেষ পরিস্থিতিতে পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আমি আমার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে সরকারের সহায়তা কামনা করেছি।”
তিনি দাবি করেন, নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বিষয়টি তদন্ত করে তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে বলে মনে করেছেন এবং চাকরিতে পুনর্বহাল ও বেতন-ভাতা চালুর বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর ডিও লেটার দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি জাতীয় দৈনিক ওই ডিও লেটারকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে, যেখানে তাকে এবং সংসদ সদস্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওসমান গনি বলেন, “আমাকে না জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম না।”
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আইউব হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে ওসমান গনির চাকরি পুনর্বহাল ও বেতন-ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে এ বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন বলেন, চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য আরও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল, যা এখনো জমা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যের ডিও লেটার পেয়েছি। আইনি জটিলতা না থাকলে তার চাকরিতে পুনর্বহাল অসম্ভব কিছু নয়।”
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

