জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে থানার এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের পর অভিযুক্ত এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে ক্ষেতলাল থানা থেকে প্রত্যাহার করে জয়পুরহাট পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচুইল খন্দকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহজাহান খন্দকারের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে গত ৭ এপ্রিল রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৮ এপ্রিল ক্ষেতলাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নম্বর- ৩৪৯- এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে।
ভুক্তভোগী পিতা শাহজাহান খন্দকার অভিযোগ করেন, জিডি হওয়ার কয়েকদিন পর তদন্ত কর্মকর্তা তার মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন খরচের কথা বলে টাকা দাবি করেন। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় তিনি অভিযুক্ত এসআইকে তিন হাজার টাকা দেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও কিশোরীকে উদ্ধারে কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও পরিবারকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, মেয়ের সন্ধানে একদিকে যেমন পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন,অন্যদিকে পুলিশের কাছ থেকেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো মেয়ের কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারটি চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।
পরে থানা পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে গত ৫ মে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করে।
একই সঙ্গে ৭ মে জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের পর জেলা পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। তদন্তের পর এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে ক্ষেতলাল থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোক্তাদুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, একজন অসহায় বাবার কাছ থেকে নিখোঁজ মেয়েকে উদ্ধারের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

