শেরপুরের সীমান্তে বন্য হাতির ভয়ে কাঁচা ধান কাটছেন , শ্রীবরদী ও উপজেলার কৃষকেরা। হাতির আক্রমণে ফসলহানি ও জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই কাঁচা ও আধাপাকা বোরো ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। এতে ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কার পাশাপাশি বাড়ছে হতাশাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে খ্রিস্টান পাড়া, মালাকোচা, অফিস পাড়া সহ,বেশ কয়েকটি এলাকায় হাতির আক্রমণে নষ্ট হয়েছে জমির ধান। কোথাও ধান খেয়ে, কোথাও মাড়িয়ে ফসলের ক্ষতি করেছে হাতির দল।
কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ৮ হাজার ৮৫৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে বোরো ধান।
এর মধ্যে শ্রীবরদীতে ৪ হাজার ৫০১ হেক্টর, অধিকাংশ জমির ধান পরিপুষ্ট হলেও পাকতে এখনও সময় বাকি। এলাকাবাসী জানায় ‘হাতির পাল এক রাতেই সব শেষ করে দিতে পারে। তাই বাধ্য হয়েই কাঁচা ধান কাটছি।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, বালিজুড়ি, খাড়ামুড়া, তাওয়াকুচা, গ্রামজুড়ে চলছে আগাম ধান কাটার কাজ। কোথাও কাঁচা, কোথাও আধাপাকা, আবার কোথাও পরিপুষ্ট ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকেরা।
বন বিভাগের গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ জানান, ৪০ থেকে ৪৫টি হাতির একটি দলে রয়েছে প্রায় ১৫টি শাবক। দলটি গত এক সপ্তাহ ধরে শ্রীবরদী ওঝিনাইগাতীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বর্তমানে অবস্থান করছে নালিতাবাড়ীর সমশ্চূড়া ও বাতকুচি জঙ্গলে।
সমশ্চূড়া বিট কর্মকর্তা মো. কাওসার জানিয়েছেন, হাতির দল যাতে লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে। সে জন্য এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম ও স্থানীয়রা পাহারায় রয়েছে।
গজনী বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোহিদুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের। এরইমধ্যে আবেদন করেছেন কয়েকজন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

