চাঁদপুরের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র পুরানবাজারের ভূঁইয়ার ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান পল্টুন সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে প্রতিদিন মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী দিয়ে আসা কোটি কোটি টাকার পণ্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ওঠানামা করাতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভূঁইয়ার ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও আমদানিকৃত পণ্য খালাস হয়। তবে বর্তমানে সচল পল্টুন মাত্র একটি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্যতার কারণে বিদ্যমান পল্টুনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শ্রমিকরা জানান, ঢালু ও পিচ্ছিল পথে মাথায় করে ভারী মালামাল তোলা-নামা করতে গিয়ে প্রায়ই তারা চোট পাচ্ছেন।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় জানান, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ২০১৭ সালেই বিআইডব্লিউটিএ বরাবর তিনটি নতুন পল্টুন স্থাপনের আবেদন করা হয়েছিল। তৎকালীন কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করলেও দীর্ঘ সাত বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি দ্রুত জনস্বার্থে নতুন পল্টুন স্থাপনের জোর দাবি জানান।
চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নাজমুল আলম পাটওয়ারী ও জনতা লবণ মিলসের মালিক আবুল কালাম আজাদ একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পুরানবাজারের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে আধুনিক জেটি ও পর্যাপ্ত পল্টুন স্থাপন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় জেলার এই প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি তার ঐতিহ্য হারাবে।
এ বিষয়ে বর্তমান বন্দর কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, সংকটের বিষয়টি তিনি নতুনভাবে অবগত হয়েছেন। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার এবং সেখানে জেটি নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষের মৌখিক আশ্বাস এবার বাস্তবে রূপ নেবে এবং দ্রুত পল্টুন স্থাপনের মাধ্যমে চাঁদপুরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আবারও গতিশীল হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

