কৃষক কার্ড নাকি" ফসল ঘরে তুলার নিশ্চয়তা দিবে সরকার" হাওরের বিল ও নদী খনন জরুরি" এমনটাই দাবি কৃষকের, সরকারের সুদৃষ্টি চায় হাওরবাসী"
বিপজ্জনক এবছরের বৈশাখের ফসল,অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে পথে বসার শঙ্কা। জলাবদ্ধতা, শ্রমিক সংকট, জ্বালানি তেলের অভাব। যদিও আছে ৩ টি ডিলার একটিতেও নাই তেল,এরমাঝে লাগাতার ভারী বৃষ্টি,তাছাড়া গোরাট ও রাস্তার বেহাল দশা, সবমিলিয়ে অসম্পূর্ণ বৈশাখ।
দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা চায় এলাকাবাসী। এর আগে গত ২০১৭ সালে আগাম অকাল বন্যায় সব ধান তলিয়ে যেমন শতভাগ ফসল হানী হয়েছিলো, এবছরেও একমাসেরও বেশি লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে টেবলার পানির জলবদ্ধতার কারণে ও বৈরী আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় কৃষকের হাত পা বাঁধাই বলা যায়, বাধ্য হয়ে মানছে ফসল হানীর ঘটনা। এবারের দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৭ সালের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
ধান যদি না উঠে কৃষকের ঘরে,কৃষক কার্ড দিয়ে কৃষকের কি হবে? হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকেই নিরদ্বিধায় এমনই মন্তব্য করছেন। কৃষক কার্ড, নাকি- হাওর উন্নয়নে বিল ,নদী,খাল খনন? কি চায় হাওরবাসী? সরকারের কৃষক কার্ডে কৃষি উপকরণ পেয়ে কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাবে। কিন্তু এর পাশাপাশি নির্বিঘ্নে ফসল ঘরে তুলার নিশ্চয়তা জরুরি। কার্যকারি উদ্যোগ চায় হাওরবাসী।
হাওরাঞ্চলে সরজমিনে ঘুরে এবং বিভিন্ন সংস্থা এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভাগের জরিপে দেখা গেছে। মধ্যনগর উপজেলায় আবাদি জমির মোট ৩২ শ, ৫ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে মধ্যনগর ব্লক (১) ১ হাজার ১৭ হেক্টর, ব্লক (২) ১ হাজার ১২১ হেক্টর, ব্লক (৩) ১ হাজার ৬৭ হেক্টর। এর মাঝে জলাবদ্ধতা ৩০০ হেক্টর, নিমজ্জিত বা বিনষ্ট ২০০ হেক্টর।
তাছাড়া বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে ১০/ ভাগ কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে শতভাগ,৩০ ভাগ কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ ৭০ ভাগ, ৪০ ভাগ কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ ৬০/ ভাগ, ২০ ভাগ কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০/ ভাগ।
যেটুকু আছে তা-ও বৈরী আবহাওয়ার বিড়ম্বনার শিকার হয়ে, দুর্ভোগে পড়েছে কৃষকেরা। দেখা গেছে, ধান গাছের গলায় গলায় পানি থাকার কারণে, কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও উঁচু জমির ধান সংগ্রহ করতে মিলছেনা হারভেস্টারের জ্বালানি তেল, এতে হারভেস্টার মেশিন গুলো অচল অবস্থা পড়ে আছে।যদিও মধ্যনগরে তিনজন ডিলার আছে,তারা হলেন আসাদ এন্টারপ্রাইজ, আবির এন্টারপ্রাইজ,নাইম এন্টারপ্রাইজ।
তাদের অভিযোগ ডিপো থেকে তারা পাচ্ছে না তেল। এ অবস্থায় এলাকা জুড়ে শুনা যায় কৃষকের বোবা কান্না। কালবৈশাখীর দুর্যোগে কেড়ে নিয়েছে কৃষকের মুখের হাসি।
এবিষয়ে একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, টেকসই হাওর রক্ষা বাঁধের মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে হাওর উন্নয়নে স্থায়ীবাঁধ এবং স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে। তাছাড়া বিগত দিনে সরকার হাওর ভাবনায়, হাওর উন্নয়ন করতে সঠিক গবেষণার মাধ্যমে সু-পরিকল্পনার অভাব ছিলো বলে,মন্তব্য করেন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।
অপরিকল্পিত হাওর রক্ষা বাঁধেই এখন কৃষকের হয়েছে কাল। যেমন খাল কেটে কুমির আনা। দিনদিনে হাওরের প্রাকৃতির ভৌগোলিক পরিবর্তন বেড়েই চলেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো কতৃক, হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প চালু থাকলেও,বর্তমানে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ঐ বাঁধ গুলো। লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হতে দেখা গেছে। এমনটাই মনে করছেন বুদ্ধিজীবি গোষ্ঠীরা।
২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছরেই কোটি কোটি টাকা অপচয় করে হাওর রক্ষা বাঁধের মেরামত করা হয়। এবছরও ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০ টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ করা হয়েছে।
যেমন বাঁধে মাটি ভরাট করতে সরকারের কান্দা কেটে উজাড় করছে গবাদিপশুর খাদ্য কাঁচাঘাস। সেই সাথে দেখা দিয়েছে মাটির সংকট,অপরদিকে ফসলি জমি বানিয়ে সুবিধাবাদিরা সরকারের জায়গা করছে দখল। আবার ঐ বাঁধের মাটি বর্ষাকালে ঢেউ আর পানির স্রোতে ধীরে ধীরে মাটি সরে গিয়ে নদী,খাল, বিল ভরাট হচ্ছে।
এতে দেখা দিয়েছে নানাবিধ প্রাকৃতিক সমস্যা। বিলের তলা ভরাট হয়ে জমির সাথে সমতল হয়ে গেছে বিলের ডোবাগুলো। ভারী বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায় ফলানো বোরো ধান।
অন্যদিকে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায়, ঢলের পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা গেছে হারিয়ে। যার ফলে নদীতে পানি থাকে টইটম্বুর,থাকে বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা, দুশ্চিন্তায় পরে কৃষকরা। ইতিমধ্যে সরকার মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে, যেমন হাওর অঞ্চলের মানুষ দিনেদিনে দরিদ্র হবে, কৃষি কাজে আগ্রহ হারিয়ে যাবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

