AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কোটচাঁদপুরে সাফ জয়ী ফুটবলার আশিকুর সংবর্ধিত



কোটচাঁদপুরে সাফ জয়ী ফুটবলার আশিকুর সংবর্ধিত

অনূর্ধ্ব ২০ সাফ  জয়ী ফুটবলার আশিকুর রহমানকে ফুল, মিষ্টি আর ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা জানালেন কোটচাঁদপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান। সোমবার বিকেলে  নিজ কার্যালয়ে তাকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন  সাহস সেবা সংস্থার সম্পাদক রুস্তম আলী, ফুটবলার আশিকুর রহমানের পিতা শমসের আলী,চাচা মোরাদ আলী, রশিদুল ইসলাম।

সংবধর্না অনুষ্ঠানে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন,আশিকুরের এই সাফল্যে  বাংলাদেশ যেমন গর্বিত। সাথে কোটচাঁদপুরবাসীও আন্দদিত। আমি চাই আশিকুর তাঁর জয়ের ধারা অব্যহত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাক। আরো ভাল কিছু করে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করুক।
প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পিতা শমসের আলী বলেন, জালালপুর স্কুলে ৯ম শ্রনীতে পড়ার সময় আমি ইন্টার স্কুল ফুটবল খেলে ছিলাম। তাঁরপর আর লেখা পড়াও হয়নি। খেলাও হয়নি। সে সময় থেকে আমার স্বপ্ন ছিল আমার ছেলেকে আমি ভাল ফুটবলার বানাব। সে খেলা করে  দেশ ও বিশ্বের মানুষের মন জয় করবেন। আর আমি বাড়ি বসে টিভির পর্দায় আমার ছেলের খেলা দেখবো। আজ আমার সেই স্বপ্ন পূরন হয়েছে। আমি চাই সে খেলা করে দেশের জন্য আরো ভাল কিছু বয়ে আনুক। উজ্জ্বল করুক দেশের মানুষের মুখ।

এদিকে ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা রেহেনা বিবিও। তিনি আনন্দে কথা বলতে না পারলেও, কান্না জড়িত কন্ঠে ছেলে জন্য দেশবাসীর কাছে চেয়েছেন দোয়া। সে যেন আরো ভাল কিছু করতে পারেন।

জানা যায়, ২০১৮ সাল।  ওই সময় কোটচাঁদপুর জালালপুর দাখিল মাদ্রাসার  ৮ম শ্রেনীর ছাত্র  ছিলেন আশিকুর রহমান (১৯)। আর ছোট বেলা থেকেই খেলার প্রতি টান ছিল তাঁর। এ কারনে সে লেখাপড়ার পাশাপাশি ফুটবল অনুশীলন করতেন জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে। তাঁর খেলা দেখে মুদ্ধ হন জালালপুর গ্রামের সেই সময়কার খ্যাতিমান ফুটবল ইউসুফ আলী। পরামর্শ দেন বিকেএসপিত যোগদানের।

তাঁর কথামত আশিকুর বিকেএসপিতে যোগদানের জন্য অনুশীলন শুরু করেন ফুটবলার আনোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে কোটচাঁদপুর খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজ মাঠে। চলে বিকেএসপিতে যোগদানের চেষ্টা।  কিছুদিন পর ডাক আসে  বিকেএসপিতে ট্রায়াল ম্যাচ খেলার। খেলা হয়, জয়ী হন ট্রায়াল ম্যাচে। এরপর আর পিছন ফিরে দেখতে হয়নি আশিকুরের।

সামনের দিনগুলো ছিল তাঁর আর পিতার স্বপ্ন পূরনের। ইতোমধ্যে আশিকুর ৭ টি আন্তর্জাতিক টুনামেন্টের ২৩ টি ম্যাচ খেলেছেন। যার মধ্যে রয়েছে সাফ অনূর্ধ্ব ২০ চ্যাম্পিয়নশিপ ভারত ২০২২,সাফ অনূর্ধ্ব ১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ শ্রীলংকা ২০২২,এএফসি অনূর্ধ্ব ১৭ কোয়ালিফায়ার বাংলাদেশ ২০২২,সাফ অনূর্ধ্ব ১৬  চ্যাম্পিয়নশিপ ভুটান ২০২৩,সাফ অনূর্ধ্ব ১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ ভুটান ২০২৪,সাফ অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ ভারত ২০২৫,সাফ অনূর্ধ্ব ২০ চ্যাম্পিয়নশিপ মালদ্বীপ ২০২৬।

এ সব টুনামেন্টের প্রতিটিতে জুটেছে তাঁর রানারআপের খ্যাতি। তবে সর্বশেষ ২০২৬ সালের অর্জন অনূর্ধ্ব ২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ।
এ অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় আশিকুর রহমান বলেন,আমার এই অর্জনের পিছনে যাদের অবদান রয়েছে। প্রথমে আমার পিতা-মাতা। তাঁরপর আমাকে যিনি বিকেএসপিতে যোগদানের জন্য অনুপ্রেরনা দিয়েছিলেন বড় ভাই ফুটবলার ইউসুফ আলী।

এরপর  আমাকে যিনি বিকেএসপিতে যোগদানের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি হলেন বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল ইন্সেট্র্যাকটর ও পিডাব্লিউ ডি ক্লাবের হেড কোচ  ফুটবলার আনোয়ার হোসেন। আমি এই মানুষগুলোর কাছে চিরদিন ঋনী থাকবো। আমি দেশবাসীসহ আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া কামনা করছি,আমি যেন সামনের দিনে আরো ভাল কিছু করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারি। আমার অবদানে আরেকটা নাম না বললেই নয়। সেটা আমার রশিদুল ইসলাম চাচা। যিনি আমাকে টাকা দিয়েছেন। আমার সাথে সময় দিয়েছেন দীর্ঘদিন। 

 

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!