জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত সাত বছরের শিশু রকিবুল ইসলামের জীবন এখন সংকটাপন্ন। জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭ লাখ টাকা, যা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে তার দরিদ্র পরিবার।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা-এর সায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের অটোচালক মাসুদ ও গৃহিণী রাশিদার একমাত্র সন্তান রকিবুল। সে স্থানীয় হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বালিকা মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের দেড় মাসের মাথায় রকিবুলের হৃদযন্ত্রে ছিদ্র, রক্তনালীর জটিলতা ও সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকে রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন-এ তার চিকিৎসা চলছে।
চার মাস আগে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। সে সময় রক্ত জমাট বেঁধে ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্ত অপসারণসহ হার্টে বেলুন বসানো হয়। চিকিৎসকরা জানান, এটি মূল অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি হিসেবে করা হয়েছিল।
অস্ত্রোপচারের পরও তার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বর্তমানে সে শ্বাসকষ্টে ভুগছে, ঠিকমতো খেতে পারে না এবং ঠান্ডা লাগলেই শরীর নীল হয়ে যায়। ঘনঘন সর্দি-কাশিও দেখা দিচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, আগামী আগস্টের মধ্যে জরুরি অস্ত্রোপচার না করলে হৃদযন্ত্রের ছিদ্র আরও বড় হতে পারে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও বাড়তে পারে।
রকিবুলের বাবা মাসুদ বলেন, “ইতোমধ্যে এনজিও থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। জন্মের পর থেকেই চিকিৎসায় অনেক খরচ হয়েছে। এখন এত টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
মা রাশিদা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চাই। আপনারা আমার সন্তানটাকে বাঁচান।”
স্থানীয়রা জানান, অর্থাভাবে রকিবুলের চিকিৎসা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দ্রুত সহায়তা না পেলে তার জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশন মণ্ডল জানান, বিশেষ কিছু রোগে আক্রান্তদের আবেদন সাপেক্ষে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে যাচাই-বাছাই করে সহায়তার চেষ্টা করা হবে।
সহায়তা পাঠানোর জন্য (বিকাশ - ব্যক্তিগত): ০১৭৫৪৮৪৫৮৫৫
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

