গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় স্বামীর বাড়িতে স্বপ্না বাড়ৈ (২৬) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোটালীপাড়া উপজেলার কুমারিয়া গ্রামের বাসিন্দা পরেশ বাড়ৈ প্রায় আট বছর আগে তার মেয়ে স্বপ্না বাড়ৈর সঙ্গে কাশিয়ানীর সিংগা এলাকার মিলন মন্ডলের বিয়ে দেন। তাদের সংসারে দুইটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামী মিলন মন্ডল তার মা চম্পা মন্ডলের প্ররোচনায় স্বপ্নাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। গত ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্বপ্না তার বাবাকে ফোন করে নির্যাতনের কথা জানান এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বামীর পরিবার থেকে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। এ সময় স্বপ্নার গলায় কালো দাগ দেখে পরিবারের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও অপমানজনক আচরণের কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
খবর পেয়ে রামদিয়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “নিহতের বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত স্বামী মিলন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

