শেরপুরের শ্রীবরদীতে ট্রাঙ্কের ভেতর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত নারীর হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ডলি আক্তার (৩৫) নামের ওই নারীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী মোছা. রিক্তা মনি (২৬)কে গ্রেফতার করে শনিবার (৪ এপ্রিল) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
একইদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা জানান, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য টাকার দরকষাকষিকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
শনিবার দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত (পিপিএম) এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত ১ এপ্রিল সকালে শ্রীবরদী উপজেলার তাঁতীহাটি নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী মোড়ে একটি ট্রাঙ্কের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মো. আলাল মিয়ার মেয়ে ডলি আক্তার।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে পিবিআই জামালপুরের একাধিক টিম কাজ শুরু করে।
তদন্তের এক পর্যায়ে ৩ এপ্রিল লাশ বহনকারী একটি পিকআপ শনাক্ত করে শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া এলাকা থেকে জব্দ করা হয় এবং চালক আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও শেরপুরে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি নাহিদ ও তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাতশালা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসে গ্রেফতার করা হয়।
আদালতে জবানবন্দি, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ রাতে গাজীপুরের শ্রীপুরে নিজ বাসায় ডলি আক্তারকে নিয়ে যান নাহিদ। সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য টাকার দরকষাকষি নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চিৎকার শুরু করলে লোকজন জানতে পারে এই আশঙ্কায় নাহিদ গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরলে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে নাহিদ তার স্ত্রীকে বিষয়টি জানালে তারা দুজন মিলে লাশ ট্রাঙ্কে ভরে পরদিন একটি পিকআপ ভাড়া করে শেরপুরের শ্রীবরদীতে ফেলে রেখে গাজীপুরে ফিরে যান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই মো. আব্দুস সালাম, এসআই মো. ফয়জুর রহমান, এসআই মো. সামিউল ইসলাম, এসআই মো. হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

