যশোরের সোনিয়া আক্তার দিয়া (২৫) নামে এক নারী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কুয়াকাটায় নিয়ে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে মামলা তুলে নিতে চাপ দিয়ে বিষ প্রয়োগে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। সোনিয়া আক্তার দিয়া যশোরের অভয়নগর উপজেলার পোতপাড়া গ্রামের খানজাহান আলীর মেয়ে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০১৪ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে যশোর শহরের চোপদারপাড়া এলাকার এহসান আহমেদ ফয়সালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফয়সাল তাকে কুয়াকাটায় নিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একটি হোটেল কক্ষে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ফয়সাল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ মে তিনি কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার পর ফয়সাল তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে ফয়সাল, তার পিতা মানুয়া, মাতা এবং ভগ্নিপতি রিপন তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলে নিতে বলেন। এতে রাজি না হলে ফয়সালের পিতা তাকে জাপটে ধরেন এবং ভগ্নিপতি রিপন জোর করে বিষ খাইয়ে দেন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তাকে রাস্তায় ফেলে গেলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সুস্থ হওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর তিনি একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা তুলে না নিলে তাকে এসিড নিক্ষেপ, হত্যা বা গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার পিতা ও ভাইকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফয়সালের ভগ্নিপতি আইয়াজ উদ্দিন রিপন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার দাবি, ওই নারী ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও তার কাছে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

