গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের নলডাঙ্গা টুপামারী গ্রামে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় বাদি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আসামিদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্ধ রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই বেলাল হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের আলী আকবরদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি বিরোধীয় জমিতে আলী আকবর এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটার চেষ্টা করলে বেলাল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়ে একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ আলী আকবর ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বেলাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় বেলাল হোসেনের মেয়ে বিউটি বেগম বাদি হয়ে আলী আকবরসহ সাতজনকে আসামি করে সাদুল্লাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে বাদি বিউটি বেগম বলেন, “আসামিরা এলাকায় প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ হিসেবে পরিচিত। মামলা করার পর থেকেই তারা আমাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। না হলে আমার বাবা ও চাচাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে তার বাবা ও চাচাকে জড়িয়ে পাল্টা মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করছে।
বাদির বাবা বেলাল হোসেন বলেন, “আসামিদের হুমকির কারণে আমরা আতঙ্কে আছি। কখন কী হয় সেই ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ আলী আকবর বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাদুল্লাপুর থানার উপ-পরিদর্শক আবু তালেব জানান, মামলার সাত আসামির মধ্যে একজন জামিনে আছেন এবং বাকিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হুমকির বিষয়ে অভিযোগ পেলে জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

