AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

১০ দিনে সড়কে ঝরল ২৭৪ প্রাণ


Ekushey Sangbad
স্টাফ রিপোর্টার
০২:৪০ পিএম, ২৭ মার্চ, ২০২৬

১০ দিনে সড়কে ঝরল ২৭৪ প্রাণ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় গত ১০ দিনে ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন। ঈদযাত্রা ও পরবর্তী সময়ে সড়কে অতিরিক্ত চাপ, বেপরোয়া গতি এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনাকে এই প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত সারা দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৭৪ জন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, গত বছরের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ১১ দিনে ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সে তুলনায় এবার ঈদকে ঘিরে প্রাণহানি আরও বেড়েছে।

এদিকে ঈদযাত্রার সময়ে কয়েকটি বড় দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লায় বাস–ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। এর কয়েকদিন পর ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে ২৬ জনের মৃত্যু হয়।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৭ দিনে ৯২টি দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন। তবে সরকারি ও বেসরকারি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও উভয় তথ্যেই ঈদকেন্দ্রিক সড়ক পরিস্থিতির ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের গবেষণায় বলা হয়েছে, বেপরোয়া গতি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪২ শতাংশের জন্য দায়ী। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহযোগিতায় পরিচালিত ওই সমীক্ষায় আরও বলা হয়, ঈদের সময় যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, “দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে সড়ক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ আহত হন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর তথ্য পরিসংখ্যানে যুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ, বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত করা, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, ঈদকেন্দ্রিক বিশেষ ট্রাফিক অভিযান এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বাড়তি নজরদারি জোরদারের সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, কেবল দুর্ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া প্রাণহানি কমানো সম্ভব নয়।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!