‘দুই ঈদে সরকার গরিব মানুষের জন্য দশ সের করি চাউল দেয়। সেটাও হ্যামরা পাই না। শুনি সেই চাউল নেম্বর, চেয়ারম্যানরা বিকি খায়। নেতারা চাউলের ভাগ নিয়ে কাড়াকারি করে।
হ্যামরা এলা কনঠে যাই। হ্যামাক আজও কাম করি খাওয়া নাগে, কালও কাম করি খাওয়া নাগে। হ্যামার কিসের ঈদ, সারা বছর কাম করি খাই’। এমন কথা বলেন উপজেলার দূর্গম চরাঞ্চল কাপাসিয়া ইউনিয়নের কালাইসোতা চরের আমেনা বেওয়া।পনের ইউনিয়ন ও পৌরসভা নিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পরিসর।
ছয়টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ও চেয়ারম্যানদের তথ্যের ভিত্তিত্বে জানা গেছে, চরাঞ্চলসহ উপজেলায় কমপক্ষে ৬৫ হাজার ছিন্নমুল পরিবার রয়েছে। যারা দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করেন।
বিশেষ করে তিস্তার দূর্গম চরের অসহায় পরিবারগুলো অত্যন্ত কষ্ট করে দিনের পরে দিন অতিবাহিত করেন। তাদের খোঁজ নেয়ার কেউ নাই। চেয়ারম্যান ও মেম্বরগণ ভোটের পর আর তাদের কাছে যান না অভিযোগ অনেকের। ঈদ আনন্দ তাদের জন্য অভিশাপ। কারণ তারা বিশেষ এই দিনে ছেলে মেয়েদের দিতে পারেন না, নতুন কাপড় ও ভাল খাবার।
উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুমাইটারী গ্রামের নারী দিনমজুর ফাতেমা বেগম বলেন, দীর্ঘ দশ বছরেও ঈদের দিন নতুন শাড়ি পড়তে পারি নাই। এমনকি সন্তানদের নতুন জামা কিনে দিতে পারি নাই। সারা বছর যে ভাবে চলি ঈদের দিনেও সে ভাবে দিন পার করি।
পারলে সেশাই, চিনি কিনে খাই, না পারলে নাই। যখন যে কাজ পাই, তখন সেই কাজ করি। এখন ধানখেত নিড়ানীর কাজ করছি। সেখানে নারীদের মজুরি দেয় মাত্র ২০০ হতে ৩০০ টাকা। অথচ পুরুষদেরকে দেয় ৫০০ হতে ৬০০ টাকা। নারী দিনমজুদের সাথে অন্যায় কছের কৃষকরা।
রামজীবন ইউনিয়নের কৃষক লাল মিয়া বলেন, নারীরা তো পুরুষের মত কাজ করতে পারে না। সে কারণে তাদেরকে মজুরী কম দেয়া হয়। বর্তমানে পুরুষরা এসব কাজ করে না। সে জন্য নারী দিনমজুর এখন ফসলের মাঠে কাজ করছেন। তিনি দায় স্বীকার করে বলেন, তুলনামুলকভাবে নারীদের মজুরি কম হচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশনের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. রুহুল আমিন সরকার বলেন, সমাজে অনেক পরিবার রয়েছেন, যারা এখনো দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছেন।
উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, অসহায়, গরিব ও দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দের মাল যদি একজন জনপ্রতিনিধি বিক্রি করে খায়. তাকে কি বলব, সে ভাষা আমার জানা নাই। তবে এতটুকু বলব তাদের জনপ্রতিনিধিত্ব করার অধিকার নাই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, ঈদে সরকার এই উপজেলার জন্য প্রায় ৭৫ হাজার ভিজিএফ কার্ড প্রদান করেছেন। প্রতিজন কার্ডধারী ১০ কেজি করে চাল পান। অস্বীকার করা কিছু নেই, সেখানেও ছোট খাটনি হচ্ছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

