কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৪ নম্বর কড়িকান্দি ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের বিশেষ ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
বরাদ্দ অনুযায়ী কার্ডপ্রতি ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সুবিধাভোগীকে কম পরিমাণ চাল দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত নারী-পুরুষরা।
সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চাল বিতরণের সময় শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ডিজিটাল স্কেলের পরিবর্তে বালতি দিয়ে চাল মেপে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বন্দারামপুরসহ কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও নির্ধারিত পরিমাণ চাল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী আলী হোসেনের উপস্থিতি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়।
এ বিষয়ে কড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসাম্মৎ নার্গিস আক্তার বলেন, “আমি যখন চাল বিতরণ শুরু করি, তখন ১০ কেজি করেই দেওয়া হচ্ছিল। পরে কিছু তালিকার ক্ষেত্রে কম দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। সে সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কড়িকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহর মুন্সি বলেন, “অসহায় মানুষের চাল আত্মসাৎ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। কার্ডধারীর চেয়ে অতিরিক্ত মানুষ উপস্থিত হওয়ায় সবার অনুরোধে কিছুটা কমিয়ে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বালতি দিয়ে মাপার কারণে সামান্য কম-বেশি হতে পারে।”
উপজেলা দরিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার মোহাম্মদ সোহানুর রহমান জানান, তার উপস্থিতিতে ৮৬০ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ওজনে কারচুপির বিষয়ে তিনি বলেন, “বালতি দিয়ে মাপার কারণে কিছুটা তারতম্য হতে পারে, তবে অর্ধেক কম হওয়ার কথা নয়।”
সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, নির্ধারিত ১০ কেজির পরিবর্তে কম চাল বিতরণ সরকারি নীতিমালার লঙ্ঘন। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এই চাল বিতরণে অনিয়ম প্রান্তিক মানুষের ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

