পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র কক্ষ সংকটের কারণে সাধারণ চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় বহির্বিভাগে একই কক্ষে দুইজন চিকিৎসক বসে রোগী দেখছেন। এতে গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি মানসম্মত সেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগের ছোট একটি কক্ষে দুইজন চিকিৎসক পাশাপাশি বসে রোগী দেখছেন। কক্ষে জায়গা এত কম যে রোগীদের গাদাগাদি করতে হচ্ছে। একই সময়ে রোগীদের সমস্যা শোনার কারণে বিশৃঙ্খলাও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নারী রোগীরা তাদের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা খোলামেলা বলতে দ্বিধাবোধ করছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা পারুল বেগম বলেন, "একই রুমে দুইজন ডাক্তার আর অনেক মানুষ থাকায় নিজের সমস্যার কথা ঠিকমতো বলা যায় না। চারপাশ থেকে সবাই কথা শুনছে মনে হয়।"
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুব্রত কর্মকার জানান, চিকিৎসক সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে, তবে পুরনো অস্থায়ী ভবনের কারণে চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন তৈরি হচ্ছে। অনেক কক্ষ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ায় সমস্যা প্রকট। তিনি বলেন, "আমাদের চিকিৎসকের সদিচ্ছা থাকলেও জায়গার অভাবে রোগীদের পর্যাপ্ত প্রাইভেসি দিতে পারছি না। এক কক্ষে দুইজন চিকিৎসক বসা আদর্শ নয়, কিন্তু রোগীদের সেবা চালু রাখতে কোনো বিকল্প নেই।"
বর্তমানে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন মেডিকেল অফিসার কর্মরত আছেন। কক্ষ সংকটের কারণে জরুরি পরীক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, হাসপাতাল ভবনের কাজ ১৮ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও নানা অনিয়মের কারণে তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন করে কক্ষ সংখ্যা বাড়ানো হোক, যাতে সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বজায় থাকে এবং রোগীরা নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা পেতে পারেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

