নড়াইলে দু’পক্ষের সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনায় ৬৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে বাবা-ছেলেসহ দুই পক্ষের চারজন নিহত হন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে নিহত খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তবে নিহত অপরপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করেননি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার লোকজনের সঙ্গে আরেক সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মোল্যা-পক্ষীয় খলিল শেখের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল।
খলিল শেখপক্ষের অভিযোগ, বিরোধের জের ধরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে সেহরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে এসে খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ এবং প্রতিবেশী ফেরদৌস হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে দায় এড়াতে নিজেদের একজনকে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এদিকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার লোকজন পাল্টা দাবি করেন, ওই রাতে খলিল শেখের লোকজন খায়রুজ্জামান-পক্ষের ওসিকুর ফকিরকে কুপিয়ে জখম করে। পরে নড়াইল জেলা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ওসিকুর ফকিরের কয়েকটি বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান, একপক্ষের দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

