AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কোটচাঁদপুরের ৭ শিক্ষার্থীর মহাকাশ নিয়ে বিজ্ঞান ভাবনা


Ekushey Sangbad
সুব্রত কুমার, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ
০৬:৪৬ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কোটচাঁদপুরের ৭ শিক্ষার্থীর মহাকাশ নিয়ে বিজ্ঞান ভাবনা

মহাকাশে মানুষের বসতি স্থাপনে তিনটি বিষয়ে গবেষণা করে প্রতিবেদন লিখেছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ শিক্ষার্থী খাজা আতিফ আবিদ, তসলিম উদ্দিন, আরেফিন সিদ্দিকী, ওমর ফারুক আল সাবিত, তাওফিক আহমেদ, তাসলিম আহমেদ,মুনতাসির রহমান বিশ্বাস।

যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার,টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিনন্দন ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান।

এই প্রকল্পটির বাস্তব ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা হলে, ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন ওই শিক্ষার্থীরা। যে প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান (এন,এস,এসের) লিভিং ইন এ হেলদি স্পেস প্রতিযোগিতায় বিশ্বের দশম গ্রেডে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।

এ ফলাফলে তারা খুশি। তবে ওয়াশিংটনে যাবার ব্যয়ের কথা ভেবে চিন্তার ভাজ তাদের কপালে। কারন প্রতিযোগিতায় গিয়ে তাদের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করতে না পারলে সব পরিশ্রম  বৃথা হবে শিক্ষার্থীদের। এ জন্য তারা সরকার তথা সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ খবরে সামনের দিনে এগিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

কোটচাঁদপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ শিক্ষার্থীর একজন খাজা আতিফ আবিদ। ২০২৪ সালে তাঁর ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের বন্ধুরা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্পেস সোসাইটি (এন,এস,এসের) প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহন করেন। যার ফল ঘোষণা হয় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। আর সেই প্রেস রিলিজটি প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রেস রিলিজটি দেখে অনুপ্রানীত হন আবিদ।

এরপর থেকে শিক্ষার্থী গবেষণার প্রতিবেদন লেখার কথা ভাবতে থাকেন। সে ভাবনা থেকে তাঁর বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ৬ বন্ধুকে নিয়ে একটা দল গঠন করেন। লেখা শুরু করেন প্রতিবেদন। তাদের বিষয় ছিল ‘এ ভিশন অফ হারমোনি,হেলথ এন্ড প্রগেসেস’। যেটি লিখতে তাদের এক বছর সময় লেগে ছিল । আর এ প্রতিবেদন লেখার বেশির ভাগ সময় তারা এক সঙ্গে কাটিয়েছেন বিদ্যালয়ের ল্যাবেই। শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসের পড়ার পাশাপাশি তারা এ কাজটি করতেন।
এরপর সেই গবেষণার  প্রতিবেদনটি ২১ নভেম্বর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের (এনএসএসের)লিভিং ইন এ হেলদি স্পেস প্রতিযোগিতায় পাঠিয়ে দেন। যার ফল প্রকাশিত হয় ৩১ শে জানুয়ারি ২০২৬ সালে (এনএসসের) ওয়েবসাইট । সেই ওয়েবসাইট থেকে তারা জানতে পারেন দশম গ্রেডে (বড় দল) ক্যাটাগরিতে তাদের দল প্রথম হয়েছেন। এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ২৫২ টি দেশ অংশগ্রহন করেন বলে জানিয়েছেন তারা।

এ প্রকল্প কিভাবে কাজ করবে জানতে চাইলে,আবিদ বলেন,“স্টেলার হ্যাভেন” একটি গবেষণাভিত্তিক ও ভবিষ্যৎমুখী চন্দ্র বসতি পরিকল্পনা। যার মূল লক্ষ্য চাঁদের কঠিন ও প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি, নিরাপদ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ মানব সমাজ গড়ে তোলা। এই প্রকল্পে প্রথমে ৭০ হাজার মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব হবে।

আমরা পুরো স্থাপনাটি দুটি বৃহৎ ষড়ভুজ কাঠামো এবং একটি কেন্দ্রীয় টাওয়ার নিয়ে নির্মিত দেখিয়েছি। এই কেন্দ্রীয় অংশ শক্তি সরবরাহ, বায়ু নিয়ন্ত্রণ, পানি বণ্টন এবং তথ্য আদান-প্রদানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। যার নকশাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ছোট সংযোগকারী পডের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন অংশ যুক্ত করা যায়।

এর ফলে পরে কাঠামো পরিবর্তন না করেই বসতিকে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। প্রকল্প অনুযায়ী প্রথম দুই বছরে ভিত্তি নির্মাণ ও মূল অবকাঠামো স্থাপন করা হবে। পরবর্তী কয়েক বছরে আবাসন, কৃষি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে। যা দশ বছরে  সম্পূর্ণ প্রস্তুত একটি চন্দ্র সমাজ গড়ে উঠবে।
এখানে টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরবচ্ছিন্ন শক্তি। যেহেতু চাঁদের দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য পৃথিবীর তুলনায় ভিন্ন এবং চন্দ্ররাত প্রায় ১৪ দিন স্থায়ী হয়। সেহেতু দিনের বেলায় সৌরশক্তি ব্যবহার করা হবে। কারণ চাঁদের পৃষ্ঠে সূর্যালোক সরাসরি পৌঁছায়। তবে দীর্ঘ রাত্রিকালে শক্তি সরবরাহের জন্য ৪০ কিলোওয়াট ফিশন সারফেস পাওয়ার সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। 
যা পারমাণবিক শক্তির মাধ্যমে ধারাবাহিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। যা উন্নত শক্তি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ বণ্টন করবে। যাতে কৃষি, পানি পুনর্ব্যবহার, বায়ু নিয়ন্ত্রণ ও আবাসিক অংশ সব সময় সচল থাকে।
খাদ্য নিরাপত্তা এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এজন্য মোট এলাকার প্রায় ৩৮ শতাংশ  কৃষির জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে।যেহেতু  চাঁদের মাটিতে সরাসরি চাষ সম্ভব নয়। সে কারনে হাইড্রোপনিক্স ও অ্যারোপনিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।হাইড্রোপনিক্স মাটি ছাড়া পুষ্টিসমৃদ্ধ পানিতে গাছ জন্মায়। এ কারনে দ্রুত বৃদ্ধি ও পানি সাশ্রয় সম্ভব হয়। আর অ্যারোপনিক্সে গাছের শিকড়ে সূক্ষ্ম পুষ্টি কণার স্প্রে করা হয়। যা খুব অল্প পানি ব্যবহার করে বেশি ফলন দেয়। এই পদ্ধতিতে পালং শাক, লেটুস, টমেটো, স্ট্রবেরি, মটরশুঁটি, কুইনোয়া, ডাল ও বাদামজাতীয় ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। 
এতে সাপ্তাহিক খাদ্যতালিকা এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাতে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ক্যালরি, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান নিশ্চিত হয়। যা কম মাধ্যাকর্ষণে হাড় ও পেশির দুর্বলতা রোধে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আবিদ আরো বলেন, চাঁদে উচ্চ বিকিরণ একটি বড় ঝুঁকি। পৃথিবীর মতো সেখানে চৌম্বক ক্ষেত্র বা ঘন বায়ুমণ্ডল নেই।  ফলে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি সরাসরি পৃষ্ঠে পৌঁছায়। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ বিকিরণ প্রতিরোধী প্রাচীর, পানি স্তর, পলিথিন ও ধাতব আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে। ভেতরে স্থাপন করা হবে সেন্সর, যা বিকিরণ মাত্রা পরিমাপ করবে এবং এআই-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা নিরাপদ সময় নির্ধারণ করবে। বাইরে কাজ করার সময় মহাকাশচারীরা বিশেষ সুরক্ষিত পোশাক পরবে। যাতে দিনে ও রাতে উন্নত লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর মান নিয়ন্ত্রণ করবে।
এ প্রকল্পে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকিরণ সহনশীল ও দ্রুতবর্ধনশীল ফসল তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেটি শৈবাল ও ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক বায়োরিয়্যাক্টর কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন উৎপাদন করবে। একই সঙ্গে মানব ও উদ্ভিদের বর্জ্য থেকে পানি ও পুষ্টি উপাদান পুনরুদ্ধার করবে।

এই ক্লোজড-লুপ ব্যবস্থা পৃথিবীর উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেবে। পানি পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থায় ঘাম, প্রস্রাব, বাষ্প ও ব্যবহৃত পানি সংগ্রহ করে পরিশোধন করবে । ফলে প্রায় ৯০–৯৫ শতাংশ  পানি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সব উপাদান পুনর্ব্যবহারের চেষ্টা থাকবে। যাতে করে কিছুই যেন অপ্রয়োজনীয় না থাকে। এখানে খাদ্য ও শস্য সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সাইলো ব্যবহার করা হবে। যা পরিবেশ বান্ধব উপকরণ দিয়ে তৈরি প্যাকেজিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।

নিয়মিত পরীক্ষা করে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা হবে। পুরো ব্যবস্থাটি এমনভাবে পরিকল্পিত, যাতে এটি শুধু একটি বাসস্থান নয়। বরং একটি পূর্ণাঙ্গ, ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে পরিণত হবে।
এ গবেষণা প্রতিবেদন থেকে  চাওয়া কি,এমন প্রশ্ন তারা বলেন,এখানে আমাদের তেমন কোন চাওয়া নাই। আমরা আমাদের এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরাটাই ছিল মূল লক্ষ্য। এতে করে তারা আমাদের দিবেন দুইটি সনদ। একটি প্রথম স্থান অধিকারের। আরেকটি ন্যাশনাল স্পেস সোসাইটিতে যোগদান করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করার জন্য। যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে। যেটি অনেক ব্যয় বহুল। তিনি বলেন,আমার জানামতে এর আগে যারা ওই প্রতিযোগিতায় গিয়েছিলেন,তাদেরকে ওই সংস্থা থেকে মোট ব্যয়ের অর্ধেক টাকা দিয়েছিলেন। যা প্রায় ৭/৮ লাখ টাকা। 
যেটি আমাদের কারোর পক্ষে আয়োজন করে যাওয়া সম্ভব হবে না ওয়াশিংটনের সেই প্রতিযোগতায়। যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবছরের জুন মাসের প্রথম দিকে। আর যেতে না পারলে আমাদের সকল পরিশ্রম বিথা হয়ে যাবে। তারপরও তারা সম্মেলনে যাবার জন্য ইতোমধ্যে পাসপোর্ট করার কাজ শুরু করেছেন।
তবে তারা সহায়তা চেয়েছেন সরকার তথা সংশ্লিষ্টদের কাছে।

এই ৭ ক্ষুদে গবেষকদের একজন হলেন খাজা আতিফ আবিদ। তিনি কোটচাঁদপুর বাজেবামনদহ, টি এন্ড টি পাড়ার ব্যবসায়ীক পিতা কে, এন ওয়াহেদুল আলম ও মাতা আসমা খাতুনের গৃহীণী) ছেলে। 
তসলিম উদ্দিন হলেন প্রভাষক এ.এস.এম. সালাহউদ্দিনের ছেলে। যিনি চুয়াডাঙ্গা জীবননগর সরকারী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক(পদার্থ বিজ্ঞান)। আর মাতা রোজি আকতার। যিনি কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা কলেজের প্রভাষক (জীববিজ্ঞান)। তারা কোটচাঁদপুর বাজার পাড়ার বাসিন্দা। 
আরেফিন সিদ্দিকী,সাংবাদিক কর্মী ও ব্যবসায়ীক পিতা কামরুজ্জামান (সিদ্দিকীর) ছেলে, 
মাতার ফারজানা নাহিদ। যিনি খালিশপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে আছেন।কোটচাঁদপুর বন বিভাগ পাড়ায় বসবাস করেন তারা। ওমর ফারুক আল সাবিত কোটচাঁদপুর আদর্শ পাড়া, তালসার সড়কের শিক্ষক দম্পতি মুহঃ শরিফুল ইসলাম ও আসমা খাতুনের ছেলে। 
মুন্তাছির রহমান বিশ্বাস। তিনি হলেন কোটচাঁদপুর বাজেবামনদহ, টি এন্ড টি পাড়ার মৃত মশিয়ূর রহমান বিশ্বাস ও মাতা রোজিনা আক্তারের ছেলে। আর তাওফিক আহমেদ ও তাছলিম আহমেদ হলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুক আহাম্মেদের ও মাতা নাজনীন সুলতানার ছেলে। যিনি কোটচাঁদপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে আছেন।
এই প্রকল্প ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। আর সামনের দিনে বিশ্বের এ ধরনের আরো বড় বড় প্রতিযোগিতায় অংশ করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

এদিকে তাদের এ অর্জনের খবরে স্বাগত জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। তারা বলেন,তাদের এ অর্জন আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমরা তাদের জন্য গর্বিত।
অভিভাবকরা বলেন,এভাবে তারা আরো এগিয়ে যাক। ওই শিক্ষার্থীরা পিতা মাতাসহ দেশ ও জাতির মুখ আরো উজ্জ্বল করুক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন,যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষনা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল স্পেস সোসাইটিতে আমাদের বিদ্যালয়ের ছেলেরা তাদের নিরোলস পরিশ্রম করে দেশ তথা বিশ্ব জয় করেছেন। এতে আমরা যেমন গর্বিত। তেমন গর্বিত কোটচাঁদপুরবাসী। আমি তাদের উত্তরোত্তর আরো সাফল্য কামনা করছি। 
কোটচাঁদপুর সরকারি খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলেজের প্রভাষক ( পদার্থবিদ্যা) মাহবুবুল আলম বলেন,বর্তমান মহাবিশ্বের যুগ। এ যুগে বিজ্ঞানের যে চিরচরিত রুপ,সেখান থেকে বিজ্ঞানিরা বিজ্ঞানকে মহাকাশ কেন্দ্রীক এগিয়ে নিতে কাজ করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় (এনএসএস) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকল্প আহবান করেন সারা বিশ্বের বিজ্ঞান মনোস্ক মানুষদের কাছ থেকে।

আমাদের ছেলেরা সেই প্রজেক্টেরই একটা মডেল উদ্বোভন করেছেন। যেটি খুবই চমৎকার। যার বাস্তবতায় বিজ্ঞান অনেকদুর এগিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন,আমাদের কোটচাঁদপুরের ছেলেরা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্পেস সোসাইটি আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করে যে সাফল্য বয়ে এনেছেন। 

এটা থেকে বোঝা যায় যে,আমাদের ছেলে মেয়েরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে গিয়েছেন। তাদের এ সাফল্য কোটচাঁদপুর বাসীর জন্য একটা গর্ব।

তিনি বলেন,সামনের দিনে এ ছেলেরা যেন প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে পারে এবং দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকার তথা আমাদের সহায়তা অব্যহত থাকবে। এ ছাড়া এ ছেলেরা ভবিষ্যৎতে যে কোন কাজে যেন অভিভাবক,শিক্ষক,প্রশাসনকে পাশে পান, তাঁর জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে। সর্বপরি আমি তাদের মঙ্গল কামনা করি।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!