নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি বসতবাড়ি ও তিনটি গরুসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের চকউলি সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গোয়ালঘরে লুজ তার দিয়ে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া ছিল। সন্ধ্যার পর গরু গোয়ালে তোলার পর বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে কিছুক্ষণ পর সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের বসতঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে আফাজ উদ্দিনের তিনটি গরু ও সম্পূর্ণ বসতবাড়ি পুড়ে যায়। এছাড়া আনিছার রহমান, আফজাল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, জাহাঙ্গীর আলম ও আবিজান বেওয়াসহ আরও পাঁচটি পরিবারের ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে মান্দা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তার আগেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এম এ মতীন, মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম মাসুদ রানা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
রোববার সকালে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা পুনরায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির খন্দকার মুহা. আব্দুর রাকিব ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৫ হাজার টাকা অনুদান দেন।
অপরদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচটি পরিবারকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ, ৩০টি কম্বল এবং প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তার জাহান সাথী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

