ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে রাহিমা (৩৫) নামে এক গৃহবধূর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের গাংগাটিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রাহিমা ওই এলাকার বিল্লালের স্ত্রী। বিল্লাল পেশায় লেপ-তোষকের ব্যবসায়ী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রাহিমা স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাজার করে বাড়িতে ফেরেন। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি তার ছেলে রাহাত (৭) ও মেয়ে সুমাইয়া (১৫)-কে খাওয়ানোর পর পাশের কক্ষে শুইয়ে দেন। স্বামী প্রতিদিনের মতো সেদিনও রাতে দেরিতে বাড়ি ফেরার কথা থাকায় তিনি ঘরের দরজা লক না করেই নিজ কক্ষে শুয়ে পড়েন।
এরই মধ্যে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর দুর্বৃত্তরা মরদেহ সরানোর চেষ্টা করেছিল। এ সময় বারান্দায় রাখা একটি সেলাই মেশিনে ধাক্কা লাগলে শব্দ হয়। শব্দ শুনে নিহতের মেয়ে বাইরে এসে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করে।
মেয়ের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে গলা কাটা অবস্থায় রাহিমার মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি তার স্বামী বিল্লালকে ফোনে জানানো হলে তিনি দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, "নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।"।"
ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবারে শোকের মাতম চলছে এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

