নেত্রকোনার কেন্দুয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গুণী শিক্ষক জহির উদ্দীন আহমেদ (৭৮) আর নেই। তিনি কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সুনামধন্য শিক্ষক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পৌরসভার সাউদপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের প্রথম জানাজা রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনারসহ সকাল ১১টায় কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা তাঁর নিজ গ্রাম, কান্দিউড়া ইউনিয়নের রাজিবপুর দিঘলকুর্শা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন।
জহির উদ্দীন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১০ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানায়। তাঁর পিতার নাম মিয়া হোসেন, মায়ের নাম হাসিনা আক্তার। তিনি ঢাকা মিরপুরের হযরত শাহ আলী একাডেমি, জাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয়, জয়কা সাতাশি উচ্চ বিদ্যালয় ও নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং ২০০৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
একজন আজীবন শিক্ষক, নীরব আলোকবর্তিকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার জীবন বর্ণাঢ্য। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়ে এবং নাতি-নাতনি সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
কেন্দুয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে রণাঙ্গনের সাথী বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান জানান, জহির উদ্দীন আহমেদ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার জাওয়ার গ্রাম থেকে ভারতের মেঘালয়ের মহেশখোলা ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। রংড়া ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি কবির কোম্পানির কার্টুন কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধে যোগ দেন। ভারত থেকে ট্রলারে বাংলাদেশে প্রবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনীর উপর গেরিলা অপারেশন পরিচালনা করেন।
তিনি ধর্মপাশা পাকিস্তানি ক্যাম্পে ক্যাপ্টেন হামিদের নেতৃত্বে অপারেশন চালান। মদন, তাড়াইল এবং করিমগঞ্জে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের সাথে তুমুল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কিশোরগঞ্জ দখল ও অস্ত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র লাভ করেন।
মরহুমের মৃত্যুতে কেন্দুয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

