আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সংসদীয় আসন-১১৩ পটুয়াখালী-৩-এর অস্থায়ী কার্যালয়—দশমিনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে এ নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে স্বাক্ষর করেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য (সিভিল জজ, বরিশাল) সাব্বির মো. খালিদ।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট এনামুল হকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০২৫-এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ), (ছ) ধারা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজার সেন্টারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিসে নূরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকেরা ভাঙচুর চালান এবং তার কর্মী-সমর্থকদের আহত করেন। এ ঘটনাকে আচরণবিধিমালার ৬(ক) ধারা পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না—তা জানতে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কারণ দর্শানোর নোটিশটি দ্রুত জারি করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে জোট সমঝোতার কারণে বিএনপি আলাদা প্রার্থী দেয়নি। নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন ‘ঘোড়া’ প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রচারণা শুরুর পর থেকেই দুজনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

